বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির প্রশাসনিক ভবনের একটি কক্ষে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক গাড়িচালক। প্রশাসনিক কাজে ব্যবহৃত ভবনের কক্ষ কীভাবে আবাসন হিসাবে ব্যবহারের সুযোগ পেলেন, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কেউ স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তবে বিষয়টি জানার পর ওই গাড়িচালককে এ সপ্তাহের মধ্যে ভবন ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন একাডেমির মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) হারুন-অর-রশীদ।
তিনি যুগান্তরকে বলেন, যে ভবনটিতে পরিবার নিয়ে ওই গাড়িচালক বসবাস করছেন, সে ভবনটি নির্মাণ শেষে এখনো বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। তবে তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগে থেকেই সেখানে গাড়িচালক বসবাস করছেন বলে জানান তিনি। ইতোমধ্যে বিষয়টি শোনার পরই তাকে এক সপ্তাহের মধ্যে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিল্পকলা একাডেমির (নতুন) প্রশাসনিক ভবনের ছয়তলার একটি কক্ষে পরিবার নিয়ে থাকছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গাড়িচালক শিউল বড়ুয়া। তার স্ত্রী জানান, তারা প্রায় তিন মাস ধরে সেখানে বসবাস করছেন। যদিও শিল্পকলা একাডেমি সূত্রে জানা গেছে তারা আট মাস ধরে সেখানে আছেন।
শিউল বড়ুয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অসুস্থ শ্বশুরকে চিকিৎসক দেখানোর জন্য পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় এসেছেন। কোয়ার্টার না পাওয়ায় তারা এখানে উঠেছেন। জানা গেছে, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের গাড়িচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এই দাপট দেখিয়েই তিনি বাস করছেন। আর এই কাজে ব্যক্তিগত লাভের জন্য সহযোগিতা করেছেন শিল্পকলা একাডেমির একজন উপপরিচালক এবং কর্মচারী ইউনিয়নের একজন নেতা।
জানতে চাইলে শিল্পকলা একাডেমির প্রশাসন বিভাগের উপপরিচালক পূর্ণলাক্ষ চাকমা বলেন, শিউল বড়ুয়া কোনো লিখিত আবেদন নয়, মৌখিক অনুমতি নিয়ে সেখানে থাকছেন। তার কোয়ার্টার পাওয়ার কথা রয়েছে। পেলে চলে যাবেন। শিল্পকলা একাডেমির একজন পরিচালক যুগান্তরকে বলেন, একাডেমি এখন কীভাবে চলছে তা আল্লাহ পাক ভালো জানেন। সংস্কৃতিকর্মীরা মহড়ার জন্য কক্ষ পান না। কিন্তু বিভিন্ন কক্ষ কোনো ধরনের নিয়মনীতি ছাড়াই অফিস হিসাবে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই অবস্থার উত্তরণ জরুরি।
জানতে চাইলে সংস্কৃতিপ্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, মহড়া কক্ষ বা হল বরাদ্দে তো বাধা দেওয়া হয় না। খালি থাকা সাপেক্ষে পান। তবে নতুন ভবন আগামী জুনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে, তখন আর এই সমস্যা থাকবে না। আর পরিবার নিয়ে একজন থাকে, এটা শুনলাম। খবর নেব।



