সৌদি তেল পাইপলাইনে হামলার পর ইরাকের মাইসানে নিরাপত্তা জোরদার, সীমান্ত বন্ধ – DesheBideshe



সৌদি তেল পাইপলাইনে হামলা

রিয়াদ,১২ সেপ্টেম্বর- সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে হামলার পর ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলীয় মাইসান প্রদেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

হামলার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের পাশাপাশি মাইসান প্রদেশের অপারেশনাল কমান্ডের দায়িত্বে থাকা কমান্ডারকে বরখাস্ত করেছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আল-জাইদি। একই সঙ্গে সীমান্তের বিভিন্ন ক্রসিং বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ধারণা করা হচ্ছে, সৌদি আরবের তেল পাইপলাইনে হামলার ঘটনাটি মাইসান প্রদেশ থেকেই পরিচালনা করা হয়েছিল। এ ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী আল-জাইদি মাইসান অপারেশনাল কমান্ডের কার্যক্রম তদন্তের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে ওই কমান্ডের প্রধানকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে সম্ভাব্য হামলাকারীরা যাতে ইরানের দিকে পালিয়ে যেতে না পারে, সে জন্য সীমান্তের বিভিন্ন ক্রসিং বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হামলার সঙ্গে কারা জড়িত এবং তারা কীভাবে সীমান্ত পার হতে পারে, তা খতিয়ে দেখছে ইরাকি কর্তৃপক্ষ।

হামলার পর মাইসানের বিভিন্ন সড়কে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যকে অবস্থান করতে দেখা গেছে।

তবে তারা কোনো নির্দিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার অংশ হিসেবেও এই নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কূটনৈতিক পর্যায়েও দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরাক সরকার। প্রধানমন্ত্রী আল-জাইদি সৌদি আরবের তেল পাইপলাইনে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের হামলা আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে তার সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানিয়েছেন।

হামলার পর মাইসানে নিরাপত্তা জোরদার, সীমান্ত বন্ধ এবং অপারেশনাল কমান্ডের নেতৃত্বে পরিবর্তনের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, ইরাক সরকার ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। হামলার পেছনে কারা রয়েছে এবং মাইসান থেকে কীভাবে সৌদি আরবের পাইপলাইনকে লক্ষ্য করা হয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে এখন এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে।

এস এম/ ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

Scroll to Top