শুটিং সেটে মারধর ও অনাকাঙ্ক্ষিত হাতাহাতি: অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ তিশা ও অথৈ – DesheBideshe

শুটিং সেটে মারধর ও অনাকাঙ্ক্ষিত হাতাহাতি: অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ তিশা ও অথৈ – DesheBideshe


শুটিং সেটে মারধর ও অনাকাঙ্ক্ষিত হাতাহাতি: অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষিদ্ধ তিশা ও অথৈ – DesheBideshe

ঢাকা, ০৭ নভেম্বর – নাটকের শুটিং সেটে পারস্পরিক মারধরের ঘটনা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের জেরে চরম শাস্তির মুখে পড়েছেন দেশের দুই পরিচিত মুখ—অভিনেত্রী তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈ। ঘটনা নিষ্পত্তিতে অনীহা এবং সংগঠনের নিয়ম ভাঙায় ‘অভিনয়শিল্পী সংঘ, বাংলাদেশ’ তাঁদের উভয়েরই সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে।

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বিরোধ মেটাতে সংগঠনের পক্ষ থেকে একাধিকবার সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হলেও দুই অভিনেত্রীর কারোরই সদিচ্ছা না থাকায় শেষ পর্যন্ত কঠোর আইনি ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে হেঁটেছে কার্যনির্বাহী পরিষদ।

যে ঘটনা থেকে যত বিতর্কের সূচনা

ঘটনার সূত্রপাত গত ৩ মার্চ মানিকগঞ্জে। পরিচালক রাফাত মজুমদারের একটি নাটকের শুটিং চলার সময় তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈর মধ্যে তুমুল কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এরপরই সামিয়া অথৈ ফেসবুক লাইভে এসে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে সেটে গায়ে হাত তোলা ও মারধরের অভিযোগ তোলেন।

সামিয়ার দাবি ছিল, নাটকের চিত্রনাট্য অনুযায়ী তিশাকে আলতো করে চড় মারার কথা থাকলেও তিশা রেগে গিয়ে তাঁকে সজোরে একাধিক চড় মারেন, যার ফলে তাঁর চোখ ও গাল ফুলে যায়।

অন্যদিকে সব অভিযোগ অস্বীকার করে তানজিন তিশা জানান, চিত্রনাট্য ও চরিত্রের চাহিদানুযায়ী দৃশ্যটি ধারণ করা হচ্ছিল, এখানে ব্যক্তিগত আক্রোশের কিছু নেই। ঘটনার সময় উপস্থিত পরিচালকও জানিয়েছিলেন, দৃশ্যটি দৃশ্যায়ন করার সময় ভুলবোঝাবুঝি থেকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে।

কেন স্থগিত হলো সদস্যপদ?

অভিনয়শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ রানা মিঠু স্বাক্ষরিত চিঠি সূত্রে জানা যায়:

গত ৭ জুলাই দুই অভিনেত্রীকে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ দেওয়া হলেও তারা কেউই নির্ধারিত সময়ে তার জবাব দেননি।

সালিস কমিটির বৈঠকে পারস্পরিক ক্ষমা চেয়ে যৌথ ভিডিও বার্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও তা অমান্য করা হয়।

বারবার চিঠি পাঠানো ও ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো সাড়া দেননি।

সংগঠনের এমন সিদ্ধান্তের পর রাশেদ মামুন অপু সংবাদ মাধ্যমকে জানান, “আমরা বিষয়টিকে সমঝোতার মাধ্যমে শেষ করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু কোনো পক্ষই সাড়া না দেওয়ায় এবং সাংগঠনিক নির্দেশ অমান্য করায় সালিস কমিটির সর্বসম্মত সুপারিশক্রমে তাঁদের সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

এনএন/ ০৭ নভেম্বর ২০২৬

Scroll to Top