টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে দেশের কৃষকদের জন্য বহুমুখী সেবা-সমৃদ্ধ ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার ১৪ এপ্রিল উদ্বোধন শেষে চ্যানেল আই-এর পরিচালক ও বার্তা প্রধান এবং কৃষি উন্নয়ন ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজের সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী কৃষিখাতের আধুনিকায়ন ও কৃষকদের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের রোডম্যাপ তুলে ধরেন।
কেন বেছে নেওয়া হলো পহেলা বৈশাখ?
সাক্ষাৎকারের শুরুতেই শাইখ সিরাজ জানতে চান, বাঙালির সার্বজনীন উৎসবের এই দিনটিকেই কেন এই কার্ড বিতরণের জন্য বেছে নেওয়া হলো? জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিনটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, পহেলা বৈশাখ এখন বড় সামাজিক উৎসবে রূপ নিলেও এর আদি যোগসূত্র কৃষির সঙ্গে। আগে এই দিনে কৃষিপণ্যের ব্যবসায়ীরা হালখাতা খুলতেন। ফসলি সনের সঙ্গে বৈশাখের যে সম্পর্ক, তাকে সম্মান জানাতেই এই দিনটি বেছে নেওয়া হয়েছে।
চার বছরে সব কৃষক পাবেন স্মার্ট কার্ড
শাইখ সিরাজের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ২ কোটি ৭৫ লাখ তালিকাভুক্ত কৃষক রয়েছেন। সরকার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে যে, আগামী চার বছরের মধ্যে প্রতিটি কৃষকের হাতে এই স্মার্ট কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের অগ্রাধিকার দিচ্ছি। আজ ১১টি উপজেলার ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষককে কার্ড দেওয়া হলো। তবে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে বাজেটে কিছুটা চাপ সৃষ্টি হওয়ায় সংখ্যাটি আরও বড় করা যায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ভর্তুকি বনাম প্রযুক্তি: ন্যানো প্রযুক্তির পথে বাংলাদেশ
সাক্ষাৎকারে শাইখ সিরাজ সারের ওপর ৩৬ হাজার কোটি টাকার বিশাল ভর্তুকির কথা উল্লেখ করে জানতে চান, অর্থ অপচয় রোধে সরকার প্রযুক্তিগত দিকে, বিশেষ করে ন্যানো প্রযুক্তিতে কেন যাচ্ছে না?
উত্তরে প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, সরকার এরই মধ্যে ন্যানো প্রযুক্তির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, কৃষির উন্নয়নে সব কিছুই করা হবে। সারের ভর্তুকির একটি বড় অংশ অপচয় হয়। অনেক সময় কৃষক বুঝতে পারেন না জমিতে কী পরিমাণ পানির প্রয়োজন। এতে পানি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জমিতে অ্যামোনিয়া বেড়ে যায়। আমরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসেছি এবং এই প্রযুক্তি চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেব।
ঋণ সমস্যা ও পুরোনো স্মৃতির অবতারণা
আলাপচারিতার এক পর্যায়ে শাইখ সিরাজ ৩০ বছর আগের একটি স্মৃতি রোমন্থন করেন। তিনি বলেন, ১৯৯৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারেও তিনি কৃষকদের ঋণের জন্য মহাজন বা এনজিওর ওপর নির্ভরশীলতার কথা তুলেছিলেন, যা আজও বিদ্যমান। প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার প্রশ্ন ছিল—ঋণ ব্যবস্থাটা তিনি কতটা সহজ করতে পারবেন?
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়েই আমরা ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত থাকা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করেছি। এতে ১২ লাখ কৃষক সরাসরি উপকৃত হয়েছেন। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা এক দিনে সমাধান হবে না, তবে কৃষক কার্ড এই সংকট সমাধানেরই একটি বড় অংশ। এর মাধ্যমে কেবল ধান চাষি নয়, মৎস্য চাষি, পোল্ট্রি খামারি এমনকি লবণ চাষিরাও ব্যাংকিং সুবিধার আওতায় আসবে।
আগামীর বাংলাদেশ
সাক্ষাৎকারের শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, আসুন সকলে মিলে আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলি। যে যার অবস্থান থেকে সঠিক দায়িত্ব পালন করলেই আমরা সফল হব।




