লেবাননে হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে জোরালো হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। যুদ্ধবিরতি আরও তিন সপ্তাহ বাড়ানোর দুই দিনের মাথায় এই নির্দেশ আসে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
নির্দেশের পরই দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে ইসরায়েলি হামলা শুরু হয়। শনিবার (২৫ এপ্রিল) চালানো এসব হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছে।
সীমান্তজুড়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নতুন করে চাপে ফেলেছে। যদিও এই চুক্তির ফলে সংঘর্ষ কিছুটা কমেছে, তবে পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে দুই দেশের প্রতিনিধিদের আলোচনার পর বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হয়।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে বার্তা সংস্থা এজেন্স ফ্রান্স-প্রেস জানায়, শনিবার নাবাতিয়েহ জেলার ইয়োহমোর আল-শাকিফ শহরে একটি ট্রাক ও মোটরসাইকেলে ইসরায়েলি হামলায় চারজন নিহত হয়।
এছাড়া বিনত জবেইল জেলার সাফাদ আল-বাত্তিখ শহরে আরেক হামলায় দুইজন নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়।
ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, তারা অস্ত্রবোঝাই একটি গাড়িতে থাকা তিনজন হিজবুল্লাহ সদস্যকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করেছে। পাশাপাশি মোটরসাইকেলে থাকা আরও একজন সদস্যকেও হত্যা করা হয়েছে।
এছাড়া লিতানি এলাকায় আরও দুইজন সশস্ত্র সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানায় আইডিএফ। ইসরায়েলের দাবি, তারা দক্ষিণ লেবাননে মোতায়েন তাদের সেনাদের জন্য হুমকি তৈরি করছিল।
আইডিএফ আরও জানায়, মালকিয়া এলাকায় একটি ‘সন্দেহজনক আকাশীয় লক্ষ্যবস্তু’ শনাক্ত করা হয়েছে, যা যুদ্ধবিরতির আরেকটি লঙ্ঘন। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইয়োহমোর আল-শাকিফে হামলার জবাবে তারা দক্ষিণ লেবাননে একটি ইসরায়েলি সামরিক যান লক্ষ্য করে আক্রমণ চালিয়েছে।
নেতানিয়াহুর নির্দেশের পর লেবাননের রাষ্ট্রায়ত্ত জাতীয় সংবাদ সংস্থা (এনএনএ) জানায়, বিনত জবেইল, টায়ার ও নাবাতিয়েহ জেলার একাধিক শহরে ধারাবাহিকভাবে ইসরায়েলি হামলা হয়েছে। আইডিএফ বলেছে, দক্ষিণ লেবাননজুড়ে হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে এবং তারা বেসামরিক নাগরিক ও সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অভিযান অব্যাহত রাখবে।
এদিকে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও নিয়ন্ত্রণে রেখেছে এবং সেখানে বড় আকারে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। শনিবার এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অধিকার সংস্থা সাংবাদিকদের ওপর হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে নিন্দা জানায়। বুধবারের এক হামলায় এক সাংবাদিক নিহত হওয়ার পর এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।
মিডিয়া ফ্রিডম কোয়ালিশন (এমএফসি) জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের এই জোট সংবাদকর্মীদের নিরাপদে কাজ করার সুযোগ নিশ্চিত করতে সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির সহ-সভাপতিদের বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাজ্য ও ফিনল্যান্ড সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের বিরুদ্ধে সব ধরনের সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানায়।
ইসরায়েলি হামলায় লেবাননের একটি পত্রিকায় কর্মরত সাংবাদিক আমাল খলিল নিহত হন এবং ফ্রিল্যান্স আলোকচিত্রী জেইনাব ফারাজ আহত হন। লেবাননের কর্মকর্তাদের দাবি, একটি গাড়িতে প্রথম হামলার পর আশ্রয় নিতে গেলে তাদের লক্ষ্য করে দ্বিতীয় হামলা চালানো হয়, যেখানে দুইজন নিহত হন।
তবে আইডিএফ দাবি করেছে, তারা সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়নি।




