
ঢাকা, ১০ মে – প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় মা দিবস। পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর এবং সহজ ডাক হলো ‘মা’। এই একটি শব্দের সঙ্গে মিশে আছে অকৃত্রিম ভালোবাসা, মমতা আর নিরাপত্তা। মা হলেন পৃথিবীর সবচেয়ে নির্ভরতার মানুষ। সামান্য ব্যথা পেলেও মানুষ মনের অজান্তেই মা বলে ডেকে ওঠে। সন্তানের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে মায়ের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
অনেকে মনে করেন মায়ের জন্য আলাদা কোনো দিবসের প্রয়োজন নেই, তবুও মাকে ভালোবেসে একটি দিন উৎসর্গ করার রীতি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।
দিনটি উপলক্ষে সকাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মায়ের প্রতি ভালোবাসা জানাচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। অনেকে মায়ের সঙ্গে ছবি আপলোড করে নিজেদের আবেগ ও অনুভূতি প্রকাশ করছেন।
মাকে নিয়ে কবি কাদের নেওয়াজ লিখেছেন যে ” মা কথাটি অত্যন্ত ছোট হলেও ত্রিভুবনে এর চেয়ে মধুর নাম আর নেই।সত্য ন্যায়ের ধর্ম থাকুক মাথার’ পরে আজি/ অন্তরে মা থাকুক মম, ঝরুক স্নেহরাজি।”
জন্মের পর থেকে শৈশব ও যৌবনের প্রতিটি ধাপে মা জীবনের এক অপরিহার্য অংশ। মায়ের হাত ধরে সন্তানের পথচলা শুরু এবং মায়ের চোখেই সন্তান প্রথম পৃথিবী দেখে। মায়ের সঙ্গে সন্তানের জীবনের প্রতিটি পদে জড়িয়ে থাকে হাজারও সুখকর স্মৃতি, যা মানুষকে সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা যোগায়।
মা দিবসের আনুষ্ঠানিক সূচনার ইতিহাস বেশ পুরনো। ১৯০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম মা দিবস পালন করা হয়। আমেরিকার স্কুল শিক্ষিকা আনা জার্ভিস তার মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এই দিবসের প্রচলন করেন। ১৯০৫ সালে তার মা অ্যান মেরি রিভস জার্ভিসের মৃত্যুর পর তিনি দেশজুড়ে সব মায়ের স্বীকৃতি আদায়ে প্রচারণা শুরু করেন।
১৯০৫ সালে মা দিবসকে স্বীকৃতির জন্য তিনি আইনি লড়াই শুরু করলেও শুরুর দিকে মার্কিন কংগ্রেস তা প্রত্যাখ্যান করে। তবে তিনি দমে যাননি। পরবর্তীতে আমেরিকার সব প্রদেশ এই দিবস পালনে সম্মত হয়। এভাবেই বিশ্বব্যাপী মা দিবসের প্রসার ঘটে।
আজকের এই বিশেষ দিনে পৃথিবীর সব মায়ের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। পৃথিবীর সকল মা সুস্থ এবং ভালো থাকুক, এটিই আজকের প্রত্যাশা।
এনএন/ ১০ মে ২০২৬






