বিশ্বকাপের মঞ্চে এখনও কিছুটা পথ পাড়ি দেওয়া বাকি। সামনে রয়েছে সেমি-ফাইনালের কঠিন পরীক্ষা, এই পরীক্ষায় পাশ করলেই স্বপ্নের ফাইনাল। কিন্তু সেই দূরের হিসাবের মধ্যেও লামিন ইয়ামালের চোখে ভাসছে আরেকটি দৃশ্য-বিশ্বকাপের ফাইনালে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বিপক্ষে স্পেনের লড়াই। তরুণ এই স্প্যানিশ উইঙ্গারের কাছে সেটিই যেন হবে স্বপ্নপূরণের সবচেয়ে সুন্দর মঞ্চ।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মুন্দো দেপোর্তিভো আয়োজিত এক বিশ্বকাপ কুইজে অংশ নিয়ে নিজের মনের ইচ্ছার কথা অকপটে জানিয়েছেন ইয়ামাল। সেখানে তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, টুর্নামেন্ট শেষে কোন ফুটবলারের সঙ্গে জার্সি বদল করতে চান। এক মুহূর্তও না ভেবে তার উত্তর ছিল-লিওনেল মেসি। এরপর জানতে চাওয়া হয়, স্পেন যদি ফাইনালে ওঠে, তাহলে কোন দলের মুখোমুখি হতে চাইবেন। এবারও উত্তর একই আবেগের-আর্জেন্টিনা।
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে মেসির বিপক্ষে ফাইনাল খেলার স্বপ্ন নিঃসন্দেহে ইয়ামালের কাছে বিশেষ অর্থ বহন করে। কারণ বর্তমান প্রজন্মের অনেক তরুণ ফুটবলারের মতো তিনিও বেড়ে উঠেছেন মেসির খেলা দেখে। তাই বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে নিজের আদর্শের বিপক্ষে মাঠে নামার সুযোগকে তিনি দেখছেন অনন্য এক অভিজ্ঞতা হিসেবে।
তবে সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে হলে আগে স্পেনকে পেরোতে হবে কঠিন পথ। লস অ্যাঞ্জেলেসে কোয়ার্টার ফাইনালে গতকালই বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ইয়ামালের স্পেন। এই ম্যাচ জেতার পর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। শেষ চারে প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ফ্রান্স। ফাইনালের স্বপ্ন দেখার আগে টানা দুই ইউরোপীয় পরাশক্তিকে হারাতে হবে স্প্যানিশদের।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনার পথও সহজ নয়। কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড। সেই বাধা পেরোতে পারলে সেমিফাইনালে অপেক্ষা করবে ইংল্যান্ড কিংবা নরওয়ের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। ফলে ইয়ামালের কল্পনার স্পেন-আর্জেন্টিনা ফাইনাল বাস্তবে দেখতে হলে আর্জেন্টিনাকে দুটি ও নিজেদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ জিততে হবে। রোববার ভোরে কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচে নরওয়ের সঙ্গে লড়বে মেসির দল।
এদিকে ইয়ামাল টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বড় বিস্ময় হিসেবে তিনি বেছে নিয়েছেন মরক্কোর ফরোয়ার্ড ইসমাইল সাইবারিকে। ২৫ বছর বয়সী এই ফুটবলার প্রথম বিশ্বকাপেই নজর কেড়েছেন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে। গ্রুপ পর্বে ব্রাজিল, স্কটল্যান্ড ও হাইতির বিপক্ষে গোল করে এক আসরে সবচেয়ে বেশি গোল করা মরক্কোর ফুটবলারের নতুন রেকর্ড গড়েন তিনি। বিশ্বকাপ চলাকালেই পিএসভি ছেড়ে বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেওয়াও তার উত্থানের বড় স্বীকৃতি।
শুধু গোলই নয়, শেষ ষোলোতে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টাইব্রেকারে জয়সূচক পেনাল্টিটিও এসেছিল সাইবারির পা থেকে। তবে কোয়ার্টার ফাইনালের আগে কানাডার বিপক্ষে চোট পাওয়ায় ফ্রান্সের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলতে পারেননি তিনি। তবুও পুরো টুর্নামেন্টে তার পারফরম্যান্সই সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে ইয়ামালকে।
ব্যক্তিগত স্বপ্নের পাশাপাশি ইয়ামাল বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নেমে স্পেনের ফুটবল ইতিহাসে নতুন একটি রেকর্ড গড়েন। ১৯ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বিশ্বকাপের তিনটি নকআউট ম্যাচ খেলা প্রথম স্প্যানিশ ফুটবলারতিনি। এত অল্প বয়সেই এমন কীর্তি তার অসাধারণ উত্থানেরই প্রমাণ।
আরও পড়ুনঃ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়নসহ কোন দল কত টাকা পাবে?
তবে ব্যক্তিগত রেকর্ডের চেয়ে বড় লক্ষ্য এখন স্পেনকে বিশ্বকাপের আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়া। আর যদি সবকিছু পরিকল্পনামতো এগোয়, তাহলে হয়তো বিশ্বকাপের শেষ রাতে একদিকে থাকবেন লিওনেল মেসি, অন্যদিকে লামিন ইয়ামাল। সেই ম্যাচ শেষে হয়তো পূরণ হবে তরুণ স্প্যানিশ তারকার আরেকটি ইচ্ছাও-নিজের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত জার্সিটি হাতে নেওয়ার!


