খুলনা নগরীতে বস্তাবন্দী অবস্থায় উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত কিশোরীর লাশের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের মা আরিফা ইয়াসমিন সীমা খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন।
মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জবানবন্দী গ্রহণের পর আদালত আরিফা ইয়াসমিন সীমাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। নিহত কিশোরী আরফান হোসেন নির্জানা (১৭) নগরীর ইকবালনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী এবং বসুপাড়া বাঁশতলা এলাকার বাসিন্দা আলিম হোসেন আকাশের মেয়ে।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দীতে তার মা বলেন, মেয়েকে শাসন করার একপর্যায়ে তার বাবা আলিম হোসেন আকাশ রাত আনুমানিক ৯টার দিকে মারধর করেন। একপর্যায়ে মাথায় লাঠির আঘাত লাগলে নির্জনা ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এরপর তারা দুজন মিলে মরদেহ একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে বাসার নিচে নামিয়ে আনেন। পরে আলিম হোসেন আকাশ মোটরসাইকেলে করে মরদেহ নগরীর প্রান্তিক আবাসিক এলাকায় ফেলে আসেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মোটরসাইকেল শনাক্তের মাধ্যমে আলিম হোসেন আকাশকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে পুলিশি হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, আলিম হোসেন আকাশ মাদকসেবন ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তবে এই বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


