এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব আইন সংশোধন ও সহজ অভিবাসন নীতির দাবিতে পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে কাজা দো বাংলাদেশসহ অভিবাসীদের ৫৭টি সংগঠন একযোগে সমাবেশ কর্মসূচির আয়োজন করে।
দেশটির জাতীয় সংসদের সামনে স্থানীয় সময় বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর ) দুপুর ২টায় এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় যেখানে যোগ দেয় পর্তুগালের বসবাস করা বাংলাদেশীদের আশার প্রদীপ, কাজা দো বাংলাদেশসহ প্রায় ৫৮টি সংগঠন।
সমাবেশের শুরুতেই বক্তব্য দেন সলিডারিটি ইমিগ্র্যান্টের প্রেসিডেন্ট টেমোটিও মাসেডো। তিনি বলেন, এই সরকারের নতুন আইন অভিবাসীদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলেছে। নতুন আগত অভিবাসীরা তাদের মর্যাদা হারিয়েছে এবং পরবর্তীতে যারা পর্তুগালে আগমন করবেন তাদের জন্য একটি অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে।
তিনি আরও যোগ করেন, এই নতুন অভিবাসন পরিকল্পনায় মানবপাচার চক্র লাভবান হচ্ছে। অচিরেই এই নীতি পরিবর্তন করা উচিত। বর্তমান অভিবাসন অধিদপ্তর আইমাকে শক্তিশালী না করে স্বল্পমেয়াদী সমস্যা সমাধানের কাজ করছে। যা এখানে অবস্থানরত অভিবাসীদের স্বাভাবিক জীবন বাধাগ্রস্ত করছে।
মেয়াদ উত্তীর্ণ রেসিডেন্ট কার্ড নবায়ন করতে না পারায় ভ্রমণ প্রতিবন্ধকতাসহ নানা অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন অভিবাসীরা। অথচ এই ব্যাপারে অভিবাসন অধিদপ্তর আইমা তেমন কোন সাড়া দিচ্ছে না। নতুনরা এই অভিবাসন নীতি পরিবর্তনে কারণে অনেক প্রবাসী বাংলাদেশিও বিপাকে পড়েছেন।
মো. সিফাত নামে একজন প্রবাসীর সাথে তিনি কথা হলে তিনি জানান ভ্রমণ ভিসা নিয়ে পর্তুগাল এসেছিলাম সহজ অভিবাসন নীতির আশায়। কিন্তু সময় স্বল্পতার কারণে অভিবাসন অধিদপ্তরের নিকট আবেদন (আইমা এন্ট্রি) করতে পারেননি। বর্তমানে পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তারের ভয় এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন।
চলতি বছরের ৩ জুন হঠাৎ করে অভিবাসীদের সহজ শর্তে নিয়মিত হওয়ার আইন ৮৮ এবং ৮৯-এ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর ফলে দেশটিতে অবস্থানরত অভিবাসীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। তাছাড়া, সরকারের কঠোর অভিবাসন নীতি অভিবাসীদের জন্য অমানবিক বা বৈষম্যস্বরূপ বলে উল্লেখ করেছে অভিবাসীদের সংগঠনগুলো।
অভিবাসীদের সংগঠনগুলো গত ১৩ জুনের পর থেকে সরকারের এই কঠোর অভিবাসন নীতির প্রতিবাদে সংসদের সবগুলো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অভিবাসীদের যৌক্তিক দাবি আদায় নিয়ে বৈঠক করে আসছেন। সকল বাম দলগুলোও তাদের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেছেন।
সমাবেশের শেষে অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো জানান অচিরেই সহজ নাগরিকত্ব আইন পাস করা না হলে সামনে কঠিন আন্দোলন গড়ে তোলা হবে প্রবাসীদের নিয়ে ।





