এই রায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান সম্ভবত এখানেই। আদালত সংবিধানকে একটি আইনি নথির বাইরে নিয়ে গিয়ে একটি নৈতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার হিসেবে দেখেছেন। সংখ্যাগরিষ্ঠতার গণতন্ত্রকে সাংবিধানিক গণতন্ত্রের আলোকে মূল্যায়ন করেছেন। কারণ, ইতিহাস আমাদের শিক্ষা দেয়, নির্বাচিত সরকারও কখনো কখনো এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে, যা গণতন্ত্রের ভিতকেই দুর্বল করে দেয়। তাই আধুনিক সংবিধান শুধু ক্ষমতা বণ্টনের দলিল নয়; এটি ক্ষমতার সীমা নির্ধারণের দলিলও।
এই প্রেক্ষাপটে আদালত একটি মৌলিক তাত্ত্বিক পার্থক্যের ওপর জোর দিয়েছেন—গাঠনিক ক্ষমতা (কনস্টিটুয়েন্ট পাওয়ার) এবং সংবিধান কর্তৃক অর্পিত ক্ষমতা (কনস্টিটিউটেড পাওয়ার)। জনগণ যখন সংবিধান প্রণয়ন করে, তখন তারা ‘কনস্টিটুয়েন্ট পাওয়ার’ প্রয়োগ করে। কিন্তু সংসদ সেই সংবিধানের অধীনে গঠিত একটি প্রতিষ্ঠান; তার ক্ষমতা ‘কনস্টিটিউটেড পাওয়ার’। এই দুই ক্ষমতা কখনো এক নয়। সংসদ জনগণের প্রতিনিধি হতে পারে, কিন্তু জনগণের সাংবিধানিক সার্বভৌমত্বের বিকল্প নয়।
এই তাত্ত্বিক আলোচনাই শেষ পর্যন্ত আমাদের বিচার বিভাগকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে পৌঁছে দেয়—সংবিধান সংশোধনের বৈধতা বিচার করার চূড়ান্ত মানদণ্ড কেবল ১৪২ অনুচ্ছেদ নয়; বরং ৭ অনুচ্ছেদে নিহিত জনগণের সার্বভৌমত্ব, সাংবিধানিক শ্রেষ্ঠত্ব এবং রাষ্ট্রের মৌলিক চরিত্রও।



