মার্কিন প্রশাসনের চাপ সত্ত্বেও তেল উৎপাদন বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে জ্বালানি খাতের দুই শীর্ষ প্রতিষ্ঠান এক্সন ও শেভরন।
হোয়াইট হাউস যখন কয়েক দশকের সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় উৎপাদন বৃদ্ধির আহ্বান জানাচ্ছে, তখন কোম্পানি দুটি তাদের পূর্বের কৌশলেই অটল থাকার কথা জানিয়েছে।
এক্সনের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা নেইল হ্যানসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তেলক্ষেত্র পার্মিয়ান বেসিন-এ তাদের কৌশলে “কোনো পরিবর্তন হয়নি”।
একইভাবে শেভরনের অর্থ প্রধান আইমার বনার জানান, চলমান সংকট তাদের পরিকল্পনায় কোনো প্রভাব ফেলেনি।
ইরান যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে উৎপাদন ও শোধন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা দিয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়িয়েছে। তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলারে পৌঁছেছে, আর যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম গ্যালনপ্রতি ৪ ডলারের বেশি হয়ে গেছে, যা ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
সংকট মোকাবিলায় মার্কিন সরকার কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়ার পাশাপাশি নতুন ড্রিলিং বাড়ানোর আহ্বান জানালেও বড় তেল কোম্পানিগুলো দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক কৌশলকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
হ্যানসেন বলেন, “আমরা ইতোমধ্যেই উচ্চ উৎপাদনে আছি, তাই হঠাৎ করে আরও বাড়ানোর প্রয়োজন নেই।”
অন্যদিকে বোনার বলেন, শেভরনের লক্ষ্য উৎপাদন বাড়ানো নয়, বরং ‘ফ্রি ক্যাশ ফ্লো’ বৃদ্ধি করা।
আর্থিক ফলাফলেও চাপ স্পষ্ট। এক্সন প্রথম প্রান্তিকে ৪.২ বিলিয়ন ডলার মুনাফা করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪৬ শতাংশ কম। অন্যদিকে শেভরনের মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২.২ বিলিয়ন ডলার, যা ৩৭ শতাংশ কম।
বিশ্লেষকদের মতে, বড় কোম্পানিগুলোর এই অবস্থান ইঙ্গিত দেয় যে, তারা স্বল্পমেয়াদি রাজনৈতিক চাপের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি লাভ ও স্থিতিশীলতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা আরও বেড়ে যাচ্ছে।




