মুসলমানদের কাছে জুমার দিন অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। হাদিসে এ দিনকে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। জুমার দিনে এমন কিছু বিশেষ আমল রয়েছে, যেগুলো একজন মুমিনের জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সুযোগ তৈরি করে। পবিত্র কোরআনে ‘জুমা’ নামে একটি স্বতন্ত্র সূরাও রয়েছে। হাদিসে এ দিনের মর্যাদা ও করণীয় সম্পর্কে বিভিন্ন নির্দেশনা পাওয়া যায়। জুমার দিনে গুরুত্বপূর্ণ আটটি আমল হলো।
১. জুমার দিনের মর্যাদা স্মরণ করা
আবু লুবাবা ইবনে আবদুল মুনজির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার দিনের বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এ দিনেই আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়, পৃথিবীতে পাঠানো হয় এবং তার মৃত্যু হয়। এ দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে—হারাম কোনো বিষয় প্রার্থনা না করলে—আল্লাহ তা দান করেন। এ দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৮৯৫)
২. গোসল করা
জুমার দিন গোসল করে পরিচ্ছন্ন হয়ে মসজিদে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত আমল। আউস ইবনে আউস সাকাফি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন উত্তমভাবে গোসল করে, দ্রুত মসজিদে যায়, ইমামের কাছাকাছি বসে এবং মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনে, তার প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে এক বছরের রোজা ও নামাজের সওয়াব রয়েছে। (আবু দাউদ, হাদিস: ৩৪৫)
৩. সুরা কাহাফ পাঠ করা
জুমার দিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো সুরা কাহাফ তিলাওয়াত করা। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় নূর বা আলোয় আলোকিত থাকবে। (আল-মুস্তাদরাক: ২/৩৯৯)
৪. বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা
জুমার দিনে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করার জন্য বিশেষভাবে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। আউস ইবনে আবি আউস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার দিন সর্বোত্তম দিনগুলোর একটি। তাই এ দিনে তাঁর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করতে বলা হয়েছে। কারণ, জুমার দিনে পাঠ করা দরুদ তাঁর কাছে পেশ করা হয়।(আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৭)
বাংলাভিশনের গুগল নিউজ ফলো করতে ক্লিক করুন
৫. দ্রুত মসজিদে যাওয়া
জুমার দিন নামাজের জন্য আগে আগে মসজিদে যাওয়ার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। হাদিসে মুসল্লিদের মসজিদে যাওয়ার সময় অনুযায়ী বিভিন্ন সওয়াবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রথমে মসজিদে যায়, সে যেন একটি উট কোরবানি করল। এরপর যে যায়, সে যেন একটি গরু কোরবানি করল। এরপর যে যায়, সে যেন একটি ছাগল কোরবানি করল। এভাবে পর্যায়ক্রমে সওয়াবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ইমাম খুতবার জন্য বের হলে ফেরেশতারা খুতবা শোনার জন্য উপস্থিত হন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৪১)
৬. জুমার নামাজ আদায় করা
জুমার দিনের অন্যতম প্রধান আমল হলো জুমার নামাজ আদায় করা। এ দিন গোসল করে, পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান ও সুগন্ধি ব্যবহার করে মসজিদে যাওয়ার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে পবিত্রতা অর্জন করে, সুগন্ধি ব্যবহার করে মসজিদে যায়, মুসল্লিদের মধ্যে গিয়ে কাউকে সরিয়ে জায়গা নেয় না, নির্ধারিত নামাজ আদায় করে এবং ইমাম খুতবা শুরু করলে নীরবে থাকে—তার এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত সময়ের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৮৩)
৭. দোয়া কবুলের সময় খোঁজা
জুমার দিনে এমন একটি বিশেষ সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে দোয়া করলে তা কবুল হওয়ার কথা হাদিসে এসেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কল্যাণের জন্য দোয়া করলে আল্লাহ তাকে তা দান করেন। হাদিসে এ সময়টি আসরের পর অনুসন্ধানের কথা বলা হয়েছে। (আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৮)
তাই জুমার দিন বিশেষ করে আসরের পর বেশি বেশি দোয়া ও ইস্তিগফার করা যেতে পারে।
৮. গুনাহ থেকে নিজেকে দূরে রাখা
জুমার দিনের ফজিলত অর্জনের পাশাপাশি সব ধরনের গুনাহ থেকে বেঁচে থাকাও জরুরি। হাদিসে জুমার নামাজসহ বিভিন্ন আমলের মাধ্যমে এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ মাফ হওয়ার কথা এসেছে। তবে কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
তাই জুমার দিনকে শুধু জুমার নামাজ আদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তওবা, ইস্তিগফার, কোরআন তিলাওয়াত, দরুদ পাঠ ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করা উচিত।



