
ঢাকা, ১৯ জুন – বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর শক্তি ও সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে চীন থেকে ২০টি জে-১০সিই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান ক্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সম্ভাব্য চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রভাব আরও বিস্তৃত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়ার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী এই প্রস্তাবিত প্যাকেজের মূল্য প্রায় ২২০ কোটি মার্কিন ডলার। এর আওতায় যুদ্ধবিমান সরবরাহের পাশাপাশি লজিস্টিক সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধাও থাকবে। ২০২৬ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে এই উন্নত যুদ্ধবিমানগুলো ধাপে ধাপে বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারে।
৪.৫ প্রজন্মের এই জে-১০সিই যুদ্ধবিমানে অত্যাধুনিক এইএসএ রাডার এবং নেটওয়ার্ক সেন্ট্রিক কমব্যাট সিস্টেম যুক্ত রয়েছে। এটি দীর্ঘ পাল্লার আকাশ থেকে আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ক্ষমতা রাখে যা আকাশযুদ্ধে শ্রেষ্ঠত্ব নিশ্চিত করতে সক্ষম।
এই যুদ্ধবিমান কেনার খবরটি ভারতের নিরাপত্তা মহলে বেশ উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিলিগুড়ি করিডোর নিয়ে ভারতের চিন্তা বাড়ছে। এই করিডোরটি বাংলাদেশের রংপুর ও দিনাজপুর সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় ওই এলাকায় সামরিক ভারসাম্যের পরিবর্তন ভারতের জন্য স্পর্শকাতর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা নীতিতে বড় ধরনের সমন্বয় ঘটছে। এই পদক্ষেপকে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশের এই সার্বভৌম প্রতিরক্ষা ক্রয় আঞ্চলিক রাজনীতির সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
এনএন/ ১৯ জুন ২০২৬






