
লন্ডন, ০২ অক্টোবর – ইরান যুদ্ধের উত্তাপে আন্তর্জাতিক বাজারে হু হু করে বাড়ছে অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানির দাম। এর সরাসরি প্রভাবে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যে ডিজেলের গড় দাম প্রতি লিটারে ২ পাউন্ড (২০০.০১ পেনি) ছড়িয়ে গেছে! জ্বালানির বাজারে এমন নজিরবিহীন মূল্যবৃদ্ধিতে ইউরোপ জুড়ে হাহাকার শুরু হলেও সংকট আরও ঘনীভূত করেছে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক হুমকি।
যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় মোটরিং সংস্থা ‘আরএসি’ (RAC)-এর প্রকাশিত সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির গতি কমার কোনো লক্ষণ নেই, যা সাধারণ গাড়িচালক থেকে শুরু করে সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে।
মার্কিন নির্বাচন নাকি ইউরোপের সংকট? ট্রাম্পের কঠোর হুশিয়ারি
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে ডিজেলের দাম কমানো এবং আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে মার্কিন গাড়িচালকদের স্বস্তি দিতে বড় ধরনের পদক্ষেপের কথা ভাবছে ওয়াশিংটন:
যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল ও ইউরোপের ওপর চাপ:
রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার হুমকি: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ করার বিষয়টি তারা বিবেচনা করছেন।
ইউরোপীয় মজুত ছাড়ার দাবি: মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইউরোপীয় দেশগুলোকে ‘অবিলম্বে’ তাদের জরুরি ডিজেল মজুত বাজারে ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, জ্বালানি সংকটের পুরো ভার মার্কিন কৃষক, ট্রাকচালক ও ব্যবসায়ীদের ওপর চাপানো অন্যায়।
ইইউ-এর কড়া জবাব: যুক্তরাষ্ট্রের এই আলটিমেটাম ও হুমকিকে সরাসরি ‘প্রত্যাখ্যান’ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU)। ইইউ-এর এক মুখপাত্র কড়া ভাষায় জানান, এ ধরনের একপাক্ষিক হুমকি আন্তর্জাতিক অংশীদার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা নষ্ট করবে।
যুক্তরাজ্যে ডিজেলের অর্ধেকেরও বেশি আমদানি করা হয়, যার প্রায় ১৭ শতাংশ আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। ফলে মার্কিন রপ্তানি বন্ধ হলে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপে নতুন করে হাহাকার তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিশ্বজুড়ে কেন এই বহুমুখী সংকট?
আরএসি-এর প্রতিনিধি সাইমন উইলিয়ামসের মতে, গত সাত মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল উৎপাদন ও পরিবহন ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। এর পাশাপাশি:
ইউক্রেনের হামলা: ইউক্রেনীয় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় রাশিয়ার প্রধান তেল শোধনাগারগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ডিজেলের বৈশ্বিক সরবরাহ হ্রাস পেয়েছে।
চীনের নীতি: বিশ্ববাজারের অস্থিরতা দেখে চীনও তাদের পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি কমিয়ে দিয়েছে।
যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, দেশে ডিজেলের তাৎক্ষণিক ঘাটতি নিয়ে আতঙ্কের কারণ নেই, তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে দাম আরও বাড়তে পারে। পরিবহনে বড় ধরনের ব্যয়বৃদ্ধির ফলে সাধারণ খাদ্যদ্রব্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও নতুন করে এক লাফ দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এনএন/ ০২ অক্টোবর ২০২৬


