দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের আকাশ আজ সকাল থেকেই কিছুটা অস্থির। হালকা মেঘ জমা আর গরমের ভেতর একটা চাপা অস্বস্তি—এই সময়টাতেই সাধারণত আবহাওয়ার আচরণ দ্রুত বদলে যায়। সেই ধারাবাহিকতায় দুপুরের আগেই কয়েকটি জেলায় ঝড়ো হাওয়ার আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বুধবার সকালে অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেওয়া এক সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে রংপুর, দিনাজপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দমকা থেকে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। বাতাসের গতি ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই সময় বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা এই ঝড়ো হাওয়া স্বল্পস্থায়ী হলেও হঠাৎ করেই তীব্র হয়ে উঠতে পারে—এমনটাই বলছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাই নদীপথে চলাচলকারী নৌযানগুলোকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা মূলত মাঝারি ধরনের ঝড়ো পরিস্থিতির পূর্বাভাস দেয়। এ ধরনের সংকেত জারি হলে ছোট নৌযানগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়, আর বড় নৌযানগুলোকে সাবধানে চলাচল করতে হয়।
একই সঙ্গে দিনের আবহাওয়ার আরেকটি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শুধু এই পাঁচ জেলাই নয়—রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের আরও কিছু এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায়ও দমকা হাওয়া ও বজ্রপাতসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে বলেও ধারণা দেওয়া হয়েছে। তবে এই বৃষ্টিপাত খুব বিস্তৃত আকারে হবে না, বরং ছিটেফোঁটা আকারেই দেখা দিতে পারে। এমন আবহাওয়ায় দিনের তাপমাত্রা সাধারণত খুব একটা পরিবর্তন হয় না, আজও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না।
দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। গরমের তীব্রতা কিছুটা কমলেও ভ্যাপসা ভাবটা থেকেই যেতে পারে, বিশেষ করে যেখানে বৃষ্টি কম হবে।
আরও পড়ুনঃ
সব মিলিয়ে আজকের দিনটা পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়, আবার খুব অস্বাভাবিকও নয়—বরং ঋতু পরিবর্তনের এই সময়টায় যেমনটা আশা করা যায়, ঠিক তেমনই। হঠাৎ দমকা হাওয়া বা বজ্রপাতের সময় সতর্ক থাকাটাই এখন সবচেয়ে জরুরি।



