দেশের স্বর্ণবাজারে যেন স্থিরতা বলে কিছু নেই। কয়েকদিন পরপরই দামের ওঠানামা এখন অনেকটাই নিয়মে দাঁড়িয়ে গেছে। সর্বশেষ সমন্বয়ের পর আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম, আর সেই প্রভাব এখন সরাসরি পড়ছে ক্রেতাদের পকেটে।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দাম ঘোষণা করে। তারা জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম বাড়ার কারণে এই সমন্বয় করা হয়েছে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা থেকেই নতুন দর কার্যকর হয়েছে।
নতুন দামে এখন ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকায়। ২১ ক্যারেটের ক্ষেত্রে দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭২ টাকা। ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ কিনতে গুনতে হচ্ছে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৫ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি এখন ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৫ টাকায় লেনদেন হচ্ছে।
মজার ব্যাপার হলো, একই দিনে সকালেও একবার দাম কমানো হয়েছিল। তখন ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের ভরি ছিল ২ লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকা। অর্থাৎ কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবার দাম বাড়ানো হয়েছে, যা বাজারের অস্থিরতারই ইঙ্গিত দেয়।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৬০ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩ বার দাম বেড়েছে, আর কমেছে ২৭ বার। গত বছরও একই প্রবণতা দেখা গেছে—২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার দাম পরিবর্তন হয়েছে, যার বড় অংশই ছিল বৃদ্ধি।
অন্যদিকে, রুপার বাজারে আপাতত কোনো পরিবর্তন আসেনি। ২২ ক্যারেটের রুপার ভরি বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৪৮২ টাকায়। ২১ ক্যারেটের দাম ৫ হাজার ১৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৪৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৩৮৩ টাকায় স্থির রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব, ডলারের বিনিময় হার এবং স্থানীয় চাহিদা—সবকিছু মিলিয়েই স্বর্ণের এই দামের ওঠানামা। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ কেনা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি হিসাব করে নেওয়ার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুনঃ
বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজারে এক ধরনের সতর্কতা কাজ করছে। যারা স্বর্ণ কিনতে চান, তারা দাম আরও বাড়বে নাকি কমবে—এই দোলাচলে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। আর বিক্রেতারাও পরিস্থিতি বুঝে চলছেন, কারণ বাজারের এই অস্থিরতা যে সহজে থামছে না, সেটাই এখন স্পষ্ট।



