রাজধানীতে যানজট নিরসন ও জনভোগান্তি কমাতে অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করছে সরকার। এ নীতিমালায় নগরীর শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি জীবিকা নির্বাহের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হবে বলে জানিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ডিএসসিসি নগর ভবনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। এতে বাংলাদেশ রিকশা-ভ্যান ও ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান মালিক ফেডারেশন-এর নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
সভায় জানানো হয়, ২০২১ সালে ডিএসসিসির আওতায় প্রায় ২ লাখ ১২ হাজার প্যাডেলচালিত রিকশা ও ভ্যানকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে লাইসেন্সবিহীন ও অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় যানজট তীব্র হচ্ছে এবং নাগরিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। ফেডারেশনের নেতারা বলেন, অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশার কারণে প্যাডেলচালিত রিকশা প্রায় বিলুপ্তির পথে। অনেক চালক প্যাডেল রিকশা চালাতে অনাগ্রহী হওয়ায় লাইসেন্সধারী রিকশায় ব্যাটারি সংযোজনের প্রবণতা বাড়ছে। এ ধরনের রিকশাগুলোকে নতুন নীতিমালার আওতায় বৈধতা দেওয়ার দাবি জানান তারা।
সভায় প্রশাসক মো.আবদুস সালাম বলেন, রিকশা ঢাকার ঐতিহ্য হলেও অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা এখন নাগরিকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি জানান, সরকার অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কাজ করছে এবং এ লক্ষ্যে একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, নীতিমালায় নির্দিষ্ট ডিজাইন, গতি ও নিরাপত্তা মান বজায় রেখে নির্দিষ্ট সংখ্যক রিকশা চলাচলের সুযোগ দেওয়া হবে, যাতে সড়কে বিশৃঙ্খলা কমে। পাশাপাশি ঢাকা শহরের বাইরে থেকে অবৈধভাবে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে ব্যবসা করা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলামসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




