২০২৫ সালের মে মাসে অপারেশন সিন্দুরের পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে অন্তত চারটি গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভারতীয় ও পাকিস্তানি কৌশলগত বিশেষজ্ঞ, সংসদ সদস্য এবং প্রাক্তন কূটনীতিকরা এসব বৈঠকে অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
এসব বৈঠকের মধ্যে দুটি বৈঠক ছিল ট্র্যাক ১.৫ বৈঠক, যেখানে সরকারি কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মিশ্রণ ছিল এবং যা লন্ডন-ভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (আইআইএসএস) দ্বারা মধ্যস্থতা করা হয়েছিল। অন্য দুটি ছিল ট্র্যাক ২ বৈঠক। প্রথমটি অপারেশন সিন্দুরের দুই মাস পর অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং সর্বশেষ বৈঠকটি ফেব্রুয়ারিতে কাতারের রাজধানী দোহায় অনুষ্ঠিত একটি ট্র্যাক ২ বৈঠক, যা যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক একটি থিঙ্ক ট্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত জুলাই মাসে আইআইএসএস-এর মধ্যস্থতায় লন্ডনে একটি ট্র্যাক ১.৫ বৈঠকে উভয় পক্ষের রাজনৈতিক নেতা, বিশেষজ্ঞ এবং প্রাক্তন কূটনীতিকরা একত্রিত হন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আরও জানায়, বৈঠকে পাকিস্তানি প্রতিনিধি দলের সামরিক কর্মকর্তারা ছিলেন, তবে ভারত কোনো সামরিক কর্মকর্তাকে পাঠায়নি।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আরো জানান, এরপর ২০২৫ সালের অক্টোবরে ওমানের মাস্কাটে আবারও আইআইএসএস-এর মধ্যস্থতায় আরেকটি ট্র্যাক ১.৫ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
আইআইএসএস, ওয়াশিংটনে অবস্থিত মার্কিন ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটির নিয়ার ইস্ট সাউথ এশিয়া সেন্টার (এনইএসএ)-এর সহযোগিতায়, বেশ কয়েক বছর ধরে বাহরাইন ও ওমানে সাউদার্ন এশিয়া সিকিউরিটি কনফারেন্স আয়োজন করে আসছে। এটি একটি অফ-দ্য-রেকর্ড ট্র্যাক ১.৫ ইভেন্ট, যেখানে কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের বৈরী সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই বৈঠকগুলো অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে আয়োজন করা হয়েছে। মূলত সংঘাত পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা কমাতেই এই নেপথ্য কূটনীতির আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। যদিও ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এই বৈঠকগুলো নিয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।




