
ছবি: সংগৃহীত
দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত পোশাকশিল্পের প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিকের জন্য তিন বছর আগে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ঠিক হয়েছিল ১২ হাজার ৫০০ টাকা। কিন্তু এই সময়ে বেড়েছে চাল-ডালসহ নিত্যপণ্যের দাম, বাড়িভাড়া, যাতায়াত, চিকিৎসা ও সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ। শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান বাজারদরে এই টাকায় সংসার চালানো প্রায় অসম্ভব।
তাই ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে আবারও রাস্তায় নেমেছেন তারা। অন্যদিকে, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, বিদেশি ক্রেতাদের দামের চাপ এবং কারখানা সচল রাখার চ্যালেঞ্জের কথা বলছেন মালিকরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
রোববার (১ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে রাজধানীর মিরপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা মিরপুর-১০ গোলচত্বরসহ আশপাশের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। মিরপুর-১১ ও ১২ নম্বর এলাকাতেও যান চলাচল ব্যাহত হয়। এতে কর্মস্থলমুখী মানুষসহ সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। মিরপুর ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিকল্প পথে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
এ আন্দোলন শুরু হয়েছে আরও আগে। অক্টোবরের মাঝামাঝি রাজধানীর উত্তরায় মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ করেন পোশাকশ্রমিকরা। পরে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে মিরপুর, সাভারের আশুলিয়া এবং গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে। শনিবার মিরপুরের পাশাপাশি আশুলিয়া ও গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সড়ক অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং কারখানা বন্ধের ঘটনা ঘটে।
শ্রমিকদের ক্ষোভের কেন্দ্রে রয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয়। তাদের বক্তব্য, কাগজে-কলমে যে মজুরি নির্ধারিত আছে, তা দিয়ে এখন ন্যূনতম প্রয়োজনও মেটানো যাচ্ছে না। অতিরিক্ত সময় কাজ করেও অনেক শ্রমিকের পক্ষে পরিবার নিয়ে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
মিরপুরের এক পোশাকশ্রমিক জানিয়েছেন, অতিরিক্ত সময়ের কাজসহ মাসে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় করলেও শুধু ঘরভাড়াতেই চলে যায় আট হাজার টাকা। বাকি টাকায় খাবার, চিকিৎসা, যাতায়াত ও সংসারের অন্য খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হয়। অন্য শ্রমিকদেরও একই অভিযোগ: মজুরি যে হারে বেড়েছে, জীবনযাত্রার খরচ বেড়েছে তার চেয়ে অনেক বেশি।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে সর্বশেষ ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয় ২০২৩ সালের নভেম্বরে, যা কার্যকর হয় ওই বছরের ১ ডিসেম্বর। তখন সর্বনিম্ন মাসিক মোট মজুরি আট হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়। বৃদ্ধির হার ছিল ৫৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। এর আগে ২০১৮ সালে ন্যূনতম মজুরি আট হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অর্থাৎ পাঁচ বছর পর নতুন মজুরি কাঠামো পেয়েছিলেন পোশাকশ্রমিকরা।
তবে ২০২৩ সালের পর মজুরি একেবারেই বাড়েনি, এমন নয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সরকার, মালিক ও শ্রমিকপক্ষের আলোচনায় পোশাকশ্রমিকদের বার্ষিক মজুরি বৃদ্ধির হার বা ইনক্রিমেন্ট ৫ শতাংশ থেকে ৯ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত হয়। ফলে যোগ্য শ্রমিকদের নিয়মিত বেতন বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু এতে নতুন শ্রমিকদের জন্য নির্ধারিত ন্যূনতম মোট মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকার কাঠামো পরিবর্তিত হয়নি।
এখন আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী মজুরি ৩০ হাজার টাকা করা হলে বর্তমান ন্যূনতম মজুরির তুলনায় বাড়াতে হবে ১৭ হাজার ৫০০ টাকা। অর্থাৎ বৃদ্ধির হার হবে ১৪০ শতাংশ। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো, বর্তমান ১২ হাজার ৫০০ টাকা হচ্ছে মোট বা গ্রস ন্যূনতম মজুরি। অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের একাংশ ৩০ হাজার টাকা মূল বেতন হিসেবে দাবি করছেন।

মজুরি বৃদ্ধির দাবি কতটা যৌক্তিক, তা বুঝতে মূল্যস্ফীতির হিসাবও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ। খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ২২ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত পণ্যে ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ। অর্থাৎ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় একটি পরিবারকে গড়ে একই পণ্য ও সেবা কিনতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেশি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে।
মূল্যস্ফীতির চাপ অবশ্য শুধু এ বছরের নয়। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে ২০২৪ সালে বাংলাদেশের বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ। এর সঙ্গে ২০২৬ সালেও উচ্চ মূল্যস্ফীতি অব্যাহত রয়েছে। ফলে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে একজন শ্রমিক ১২ হাজার ৫০০ টাকায় যে পরিমাণ পণ্য ও সেবা কিনতে পারতেন, এখন একই টাকায় তার চেয়ে কম কিনতে পারছেন।
২০২৪ সালের ১০ দশমিক ৫ শতাংশ, ২০২৫ সালের ৮ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ বার্ষিক মূল্যস্ফীতিকে পরপর তিন বছরের প্রতিনিধি হার ধরে হিসাব করলে সম্মিলিত মূল্যবৃদ্ধি দাঁড়ায় প্রায় ৩০ শতাংশ। সে হিসাবে ১২ হাজার ৫০০ টাকার ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখতে এখন প্রয়োজন প্রায় ১৬ হাজার ২০০ টাকা। অর্থাৎ শুধু মূল্যস্ফীতির ক্ষতি পুষিয়ে নিতেই ন্যূনতম মজুরি প্রায় তিন হাজার ৭০০ টাকা বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে।
কিন্তু শ্রমিকদের প্রশ্ন, কেবল মূল্যস্ফীতির ক্ষতি পুষিয়ে দিলেই কি একটি পরিবার চলতে পারবে? বাড়িভাড়া, খাবার, চিকিৎসা, সন্তানের শিক্ষা এবং ন্যূনতম সঞ্চয়ের জন্য কত টাকা প্রয়োজন, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে। বিশেষ করে ঢাকা, গাজীপুর, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জের মতো শিল্পাঞ্চলে বসবাসকারী শ্রমিকদের ব্যয়ের ধরনও এক নয়।
শ্রমিক অধিকার নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা ফেয়ার লেবার অ্যাসোসিয়েশনের অক্টোবর ২০২৬-এ প্রকাশিত গবেষণায়ও মজুরি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে বড় ব্যবধান পাওয়া গেছে। বাংলাদেশের চারটি কারখানায় পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, শ্রমিকদের গড় মূল বেতন জীবনধারণের উপযোগী মজুরির নির্ধারিত মানে পৌঁছায় না। এমনকি অতিরিক্ত সময় কাজ করেও অধিকাংশ শ্রমিক সেই পর্যায়ের আয় করতে পারেননি। অনেক পরিবারকে প্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে চলতে হচ্ছে।
তাহলে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি আসলে কত হওয়া উচিত? শুধু সাম্প্রতিক মূল্যস্ফীতির ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার বিবেচনায় ১৬ থেকে ১৭ হাজার টাকার একটি আনুমানিক হিসাব পাওয়া যায়। কিন্তু একটি পরিবারকে সম্মানজনকভাবে বাঁচার সুযোগ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় মজুরি বা লিভিং ওয়েজ নির্ধারণে শুধু মূল্যস্ফীতির হিসাব যথেষ্ট নয়। পরিবারের সদস্যসংখ্যা, খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন এবং জরুরি সঞ্চয়ের খরচও হিসাব করতে হবে। শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকার দাবি সেই বৃহত্তর জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রশ্নটিই সামনে এনেছে।
মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনের মধ্যেই সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। গত ১৫ অক্টোবর শ্রম অধিদপ্তর মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর কাছে প্রতিনিধির নাম চেয়ে চিঠি পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করে। সংশোধিত শ্রম আইন অনুযায়ী, বিভিন্ন খাতের ন্যূনতম মজুরি এখন তিন বছর পরপর পর্যালোচনার বিধান রয়েছে। সেই হিসাবে তৈরি পোশাক খাতের বর্তমান মজুরি কাঠামো পর্যালোচনার সময় আসছে চলতি ডিসেম্বরে।
শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, রোববার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে এবং এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে। এর আগে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা এবং বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। মালিকপক্ষও নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের দাবিতে সম্মতি দিয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও শ্রমিক নেতাদের অনেকে বলছেন, শুধু বোর্ড গঠনের ঘোষণা যথেষ্ট নয়। দ্রুত আলোচনা শুরু করে বাস্তবসম্মত মজুরি নির্ধারণ করতে হবে। সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার বলেছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাসাভাড়া, যাতায়াত ও অন্যান্য ব্যয়ের চাপ বিবেচনায় নতুন মজুরি কাঠামো প্রয়োজন।

অন্যদিকে, মালিকপক্ষ মজুরি পর্যালোচনার বিরোধিতা করছে না বলে জানিয়েছে। বিজিএমইএর সহসভাপতি মোহাম্মদ রেজওয়ান সেলিম বলেছেন, তারাও চান নতুন মজুরি বোর্ড গঠন হোক এবং শ্রমিকদের বেতন বাড়ুক। তবে মালিকদের উদ্বেগের জায়গা হচ্ছে, আন্দোলনের কারণে কারখানা বন্ধ থাকা এবং উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া।
বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানিয়েছেন, নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়টি মালিকদের জানানো হয়েছে। এরপরও শ্রমিকরা কাজে না ফিরলে শ্রম আইনের ১৩(১) ধারা অনুযায়ী সাময়িকভাবে কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারেন তারা।
মালিকদের যুক্তি, পোশাকশিল্প এমনিতেই নানা চাপে রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা, ক্রেতাদের কম দামে পোশাক সরবরাহের চাপ, জ্বালানি সংকট এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি কারখানাগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণে এসব বিষয় বিবেচনা না করলে বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলো সমস্যায় পড়তে পারে। অন্যদিকে শ্রমিক সংগঠনগুলোর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদেরও পোশাকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হবে, যাতে শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর চাপ শুধু স্থানীয় কারখানা মালিকদের ওপর না পড়ে।
সরকারও শিল্পের স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বিগ্ন। শ্রমমন্ত্রী জানিয়েছেন, কারখানা বন্ধ থাকলে উৎপাদন ও পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হবে। সময়মতো বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পণ্য পৌঁছাতে না পারলে মালিকরা অর্থ পেতে দেরি করবেন। শেষ পর্যন্ত তার প্রভাব শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের ওপরও পড়তে পারে। বকেয়া মজুরি দ্রুত পরিশোধ এবং প্রতি মাসের সাত তারিখের মধ্যে বেতন দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প প্রায় ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের উৎস। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে এই খাত থেকে। বিশ্লেষকরা বলছেন, মজুরি নিয়ে অস্থিরতা শুধু শ্রমিক ও মালিকের সমস্যা নয়, জাতীয় অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
এই পরিস্থিতিতে নতুন মজুরি বোর্ডের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হবে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার প্রকৃত ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, কারখানার আর্থিক সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতা বিবেচনায় একটি গ্রহণযোগ্য মজুরি কাঠামো নির্ধারণ করা। একই সঙ্গে শ্রমিকদের মৌলিক চাহিদা পূরণ, নিয়মিত বেতন পরিশোধ, বার্ষিক মজুরি বৃদ্ধি এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর প্রশ্নেও সমাধান খুঁজতে হবে।
তিন বছর আগে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণের সময়ও শ্রমিকদের প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ হয়নি। এরপর মূল্যস্ফীতির চাপে তাদের ক্রয়ক্ষমতা আরও কমেছে। এখন ৩০ হাজার টাকার দাবিতে নতুন করে আন্দোলন শুরু হওয়ায় পুরোনো প্রশ্নটি আবার সামনে এসেছে: দেশের রপ্তানি আয়ের তুলনায় ন্যূনতম গ্রহণযোগ্য জীবনমান নিশ্চিত করার ব্যয় আসলে কত?
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…


