স্তন ক্যানসার ধরা পড়ার পর ‘১৫ মিনিটে’ বিয়ে করেন হিনা খান

দীর্ঘ ১৩-১৪ বছরের প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও আগে থেকে বিয়ের কোনো পরিকল্পনা ছিল না অভিনেত্রী হিনা খানের। কিন্তু স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর জীবনের অনিশ্চয়তা থেকেই হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত নেন তিনি, যাতে সম্মতি দেন প্রেমিক রকি জয়সওয়ালও। শেষ পর্যন্ত ১৫ মিনিটেরও কম সময়ে সম্পন্ন হয় তাদের বিয়ে।

হিনা খান

সম্প্রতি টেনিস তারকা সানিয়া মির্জার নতুন অনুষ্ঠানে নিজের বিয়ের গল্প শুনিয়েছেন হিনা। ২০২৫ সালের ৪ জুন মুম্বাইয়ে নিজেদের বাড়ির ছাদে ঘরোয়া আয়োজনে বিয়ে করেন এই জুটি। তখন তৃতীয় পর্যায়ের স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা চলছিল অভিনেত্রীর।

বিয়ে বিষয়ে হিনা বলেন, এটি ছিল একেবারেই হঠাৎ নেওয়া সিদ্ধান্ত। আমরা বিষয়টি পরিকল্পনা করিনি। আমার মনে হয় না, আমরা বিয়ের জন্য প্রস্তুত ছিলাম। আমরা অনেক দিন ধরে একসঙ্গে আছি, ১০ বছরেরও বেশি। এখন মনে হয় ১৩-১৪ বছর হয়ে গেছে।

বিয়ের সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, শারীরিকভাবে আমি যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন তাকে বলেছিলাম, হয় তুমি জীবনে এগিয়ে যাও, নিজের পছন্দমতো কাউকে বিয়ে করো, নয়তো আমাকে বিয়ে করো। কারণ আগামীকাল কী হবে, তা আমি জানি না।

অনুষ্ঠানে সানিয়া মির্জা জানতে চান, তাদের বিয়ে কি সত্যিই মাত্র ১৫ মিনিটে সম্পন্ন হয়েছিল? উত্তরে হিনা বলেন, আসলে তারও কম সময়ে।

হিনা জানান, শারীরিক অসুস্থতা ও ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তাই তাকে দ্রুত বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহিত করেছিল। তার ভাষায়, আমি জানি না কী হতে যাচ্ছে। সত্যি বলতে, এই অনিশ্চয়তা সবার জীবনেই আছে। তাই আমি বলেছিলাম, চলো বিয়েটা করে ফেলি। সে বলেছিল, ঠিক আছে। তার কখনো কোনো আপত্তি ছিল না।

‘ইয়ে রিশতা কেয়া কেহলাতা হ্যায়’ ধারাবাহিকের সেটে প্রথম পরিচয় হয় হিনা খান ও রকি জয়সওয়ালের। ধারাবাহিকে অক্ষরার চরিত্রে অভিনয় করতেন হিনা। অন্যদিকে রকি যুক্ত ছিলেন প্রযোজনা বিভাগের সঙ্গে।

কাজের সূত্রে পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব, পরে সেই সম্পর্ক প্রেমে রূপ নেয়। ২০১৭ সালে নিজেদের সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে আনেন তারা। এরপর থেকে স্তন ক্যানসারের সঙ্গে হিনার লড়াইসহ নানা সময়ে একে অপরের পাশে থেকেছেন এই জুটি।

দীর্ঘ ১৩ বছরের বেশি সময় প্রেমের সম্পর্কে থাকার পর ২০২৫ সালের জুনে বিয়ে করেন তারা। বিয়ের ছবি প্রকাশ করে ইনস্টাগ্রামে হিনা লিখেছিলেন, দুটি ভিন্ন জগৎ থেকে এসে আমরা ভালোবাসার একটি নিজস্ব পৃথিবী গড়ে তুলেছি।

আমাদের ভিন্নতাগুলো মুছে গেছে, হৃদয় এক হয়েছে। এমন এক বন্ধন তৈরি হয়েছে, যা বহু জীবন ধরে টিকে থাকবে। আজ ভালোবাসা ও আইনের বন্ধনে আমাদের মিলন চিরস্থায়ী হলো। স্বামী-স্ত্রী হিসেবে আপনাদের আশীর্বাদ ও শুভকামনা চাই।

Scroll to Top