ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশীকে। রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর নতুন এই দায়িত্বের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে কেন্দ্রীয় খাদ্য ও ভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রহ্লাদ জোশী। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কথিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ৩৫ দিনের আন্দোলনের মুখে ৫৭ বছর বয়সী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন।
পদত্যাগপত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, দেশবিরোধী শক্তি যাতে এই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে না পারে, সেজন্যই আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি আরও বলেন, চার দশকেরও বেশি সময় ধরে আমি ছাত্র, শিক্ষক এবং শিক্ষা সংস্কারের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছি। আমি সবসময় বিশ্বাস করেছি, একটি শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দূরদর্শী শিক্ষা ব্যবস্থাই একটি শক্তিশালী জাতির ভিত্তি।
এদিকে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টা পর আন্দোলনের মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। তারা জানান, কেন্দ্র তাদের দাবিগুলো পূরণের আশ্বাস দেওয়ায় ‘সৎ উদ্দেশ্যে’ আন্দোলন শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই আন্দোলনের প্রধান দাবিই ছিল ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। এর আগে প্রহ্লাদ জোশী বলেছিলেন, সরকার শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ‘সমাজবিরোধী শক্তি’ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।
শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে যোশী বলেন, মোদি সরকার সবসময় শিক্ষার্থী ও যুবকদের পাশে থেকেছে। তাদের ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করে এমন যেকোনো অনিয়ম বা অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে। তবে আন্দোলনকে অন্য কোনো স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা থেকে শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।



