ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন সতর্ক করে বলেছেন, অঞ্চলটি নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে। তিনি মনে করেন, ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার বিভক্তিই যুদ্ধবিরতি টিকতে না পারার অন্যতম প্রধান কারণ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বোল্টন বলেন, ইরানে বর্তমানে এমন কোনো একক ক্ষমতাকেন্দ্র নেই, যা পুরো রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে সক্ষম। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক হামলায় দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতা নিহত হওয়ায় সেখানে ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা চলছে।
বোল্টনের ভাষ্য অনুযায়ী, একদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী কূটনৈতিক সমাধান ও আলোচনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, অন্যদিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালি এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে। ফলে একটি পক্ষ সমঝোতার উদ্যোগ নিলেও অন্য পক্ষের অবস্থান সেই প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করে দাবি করেন, সংঘাত-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় ওয়াশিংটনের সুস্পষ্ট কোনো দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নেই। তাঁর মতে, ২০২৬ সালের নির্বাচন সামনে থাকায় তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক উত্তেজনা বাড়াতে অনাগ্রহী, আর এই সুযোগই কাজে লাগাচ্ছে ইরানের কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলো।
ইরানে সাম্প্রতিক শোকানুষ্ঠানে মানুষের ব্যাপক উপস্থিতিকেও বোল্টন সরকার-নিয়ন্ত্রিত আয়োজন বলে মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, দেশটি বর্তমানে তীব্র পানি সংকট, অর্থনৈতিক চাপ এবং অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মুখোমুখি। এসব সংকট কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা না গেলে মধ্যপ্রাচ্য আরও বড় আকারের যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যেতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।



