থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি জনপ্রিয় পানশালায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও ৬০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে।
বিবিসি জানিয়েছে, গভীর রাতে রাজধানীর চাতুচাক এলাকার ‘রং বিয়ার না লাত ফ্রাও’ নামের পানশালায় আগুনের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সময় রাত ১টার দিকে ফায়ার সার্ভিসে খবর পৌঁছালে উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পান, ভবনের প্রধান প্রবেশপথ আগুনে ঘিরে রয়েছে এবং আতঙ্কিত মানুষ জীবন বাঁচাতে আগুনের মধ্য দিয়েই বের হওয়ার চেষ্টা করছেন।
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল জানান, এই পর্যন্ত ২৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৯ জন পুরুষ ও ১৮ জন নারী রয়েছেন। এছাড়া কয়েকজন এখনো নিখোঁজ থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আগুন লাগার সময় পানশালায় একজন সংগীতশিল্পী গান পরিবেশন করছিলেন।
তিনি আরও বলেন, প্রথমে ভবনের প্রধান বৈদ্যুতিক সুইচবোর্ডে আগুন লাগে। অনেকেই নিরাপদে বের হতে না পেরে ভবনের পেছনের অংশে চলে যান এবং ধোঁয়া থেকে বাঁচতে টয়লেটের ভেতরে আশ্রয় নেন। পরে উদ্ধারকর্মীরা সেখান থেকেই অধিকাংশ মরদেহ উদ্ধার করেন। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই একটি বিকট বিস্ফোরণ ঘটে এবং পুরো ভবনে ধোঁয়া ও আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, উপস্থিত লোকজন আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন। প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস। তবে ততক্ষণে পানশালার ভেতরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। আগুন নেভানোর পর দেখা যায়, ভবনের দেয়াল, ছাদ ও আসবাবপত্র সম্পূর্ণ পুড়ে কালো হয়ে গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, পানশালার ভেতর থেকে বিশাল আগুনের গোলা বের হচ্ছে এবং মানুষ আগুনের মধ্য দিয়েই দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করছেন। ভিডিওতে কয়েকজনকে চিৎকার করতে এবং অন্তত দুজনের শরীরে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।
এদিকে আগুন প্রথম দেখতে পাওয়া এক গাড়িচালক জানান, ভবনে আগুন জ্বলতে দেখে তিনি ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। পরে গাড়ি থেকে নেমে জানালার কাচ ভেঙে অন্তত দুজনকে বের করে আনতেও সহায়তা করেন।



