কানসাস সিটিতে আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড খেলা তখন ১১২ মিনিট। লালকার্ড পেয়ে সুইজারল্যান্ড দশ জনের দল, তবু ম্যাচ ১-১। মনে হচ্ছিল খেলা টাইব্রেকারে যাচ্ছে। ঠিক তখন বক্সের বাইরে বল পেলেন হুলিয়ান আলভারেজ। তার বাঁকানো শট ঢুকে গেল ডান দিকের ওপরের কোণে। শেষদিকে লাওতারো মার্তিনেজ আরেকটা গোল যোগ করলেন। ফলাফল আর্জেন্টিনা ৩, সুইজারল্যান্ড ১।
এবারের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের শেষ জায়গাটা পূরণ হলো। এক সেমিতে ফ্রান্স-স্পেন, আরেকটিতে ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা। প্রেডিকশন মার্কেট আর বেটিং সাইটগুলো সঙ্গে সঙ্গে বলতে শুরু করেছে, কাতারের ফাইনালটাই আবার ফিরে আসছে, মানে ফ্রান্স বনাম আর্জেন্টিনা।
কিন্তু ইতিহাসের সবচেয়ে কাছে দাঁড়িয়ে আছে যে দলটা, তাদের নাম এই দুটোর কোনোটাই নয়।
স্পেনের অপরাজিত ৩৬
আগের দিন ইঙ্গলউডে বেলজিয়ামকে ২-১ হারিয়ে স্পেন উঠেছে সেমিফাইনালে। ২০১০ সালের পর এই প্রথম। কিন্তু এর চেয়েও বড় খবর হলো, স্পেন টানা ৩৬ ম্যাচ ধরে হারছে না। প্রায় তিন বছর ধরে চলছে এই ধারা।
সংখ্যাটা কতটা বড়, তিনটা তুলনায় সেটা বোঝা যায়। বিইন স্পোর্টসের হিসাব অনুযায়ী, স্পেনের নিজেদের আগের রেকর্ড ছিল টানা ৩৫ ম্যাচ অপরাজিত, আরাগোনেস আর দেল বস্কের আমলে। সেটা এবার ভেঙে গেছে। আরেকটি হচ্ছে, মেসির আর্জেন্টিনা ২০১৯ থেকে ২০২২ পর্যন্ত টানা ৩৬ ম্যাচ হারেনি। স্পেন এখন ঠিক তার সমান। তিন বিষয়ের সবশেষটি হচ্ছে, টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থেকে সবার ওপরে ইতালি, এটাই বিশ্বরেকর্ড। স্পেন সেই বিশ্বরেকর্ড থেকে মাত্র এক ম্যাচ দূরে।
চার সেরা দল, প্রথমবার
এবারের সেমিফাইনালে একটা মজার ব্যাপার ঘটেছে। ইয়াহু স্পোর্টস বলছে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম টুর্নামেন্ট শুরুর সময় ফিফা বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চারটি দলই শেষ চারে উঠেছে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে এখন ফ্রান্স, দুইয়ে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, তিনে স্পেন এবং চারে ইংল্যান্ড।
ব্রাজিল নেই, মরক্কো নেই, ক্রোয়েশিয়া নেই, স্বাগতিক কোনো দেশও নেই। মনে হচ্ছে র্যাঙ্কিংয়ে যেমন সাজানো, টুর্নামেন্ট ঠিক তেমনই চলেছে।
আসলে ফুটবলতো এমনই, নইলে নরওয়ে ব্রাজিলকে বাদ করে দিল কীভাবে? হালান্ডের জোড়া গোলে ব্রাজিল বিদায় নিয়েছে, নরওয়ে প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। পর্তুগালও বাদ পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বেলজিয়ামের কাছে হেরেছে ৪-১ গোলে। তিন স্বাগতিক দেশের একটিও শেষ ষোলো পেরোতে পারেনি।
এসব কিছুই আগে থেকে কেউ বলতে পারেনি। তাহলে সেমিফাইনালে কি সব হিসাব মিলে যাবে?
প্রেডিকশন মার্কেট যা বলছে
প্রেডিকশন মার্কেট ও বেটিং সাইটগুলোর উত্তরটা এক কথায়, ফ্রান্সের পক্ষে।
ইএসপিএনের বেটিং পাতা বলছে, টুর্নামেন্ট শুরুর সময় ফ্রান্সের দর ছিল +৫০০, এখন সেটা +১৫০। এই দর জিনিসটা সহজ। সংখ্যা যত ছোট, দলটা তত বড় ফেভারিট। আর দরটাকে শতাংশে বদলে নিলে বোঝা যায় বাজার কোন দলকে কতটা সম্ভাবনা দিচ্ছে।

সে হিসেবে ফ্রান্স +১৫০ মানে প্রায় ৪০ শতাংশ, স্পেন +৩১০ মানে প্রায় ২৪ শতাংশ, আর্জেন্টিনা +৪৩০ মানে প্রায় ১৯ শতাংশ এবং ইংল্যান্ড +৪৯০ মানে প্রায় ১৭ শতাংশ। এখানে স্পেন আর্জেন্টিনার চেয়ে এগিয়ে।
পলিমার্কেটেও ফ্রান্সের ট্রফি জেতার সম্ভাবনা ঘোরাফেরা করছে ৩৮ শতাংশের আশেপাশে। ডিফাই রেটের হিসাবে ক্যালশিতে সেটা ছিল ৪০ শতাংশের কাছাকাছি। অর্থাৎ ফ্রান্সকে নিয়ে সবাই একমত।
কিন্তু দুই নম্বর দলটা কে, তা নিয়ে বাজার নিজেই একমত নয়। ফক্স স্পোর্টসের দেওয়া ফ্যানডুয়েলের তালিকায় শীর্ষে সেই ফ্রান্সই (+১৫৫), তবে দুইয়ে আর্জেন্টিনা (+৩০০)। তারপরে স্পেন (+৩৩০), শেষে ইংল্যান্ড (+৩৫০)। ইএসপিএন যেখানে স্পেনকে দুইয়ে রাখছে, ফ্যানডুয়েল সেখানে আর্জেন্টিনাকে।
শুধু একটা জায়গায় দুই তালিকা মিলে যায়। ইংল্যান্ড প্রায় সবখানেই সবার শেষে।
কিন্তু ম্যাচের হিসাব আলাদা
এখানে একটা পার্থক্য বোঝা দরকার। ‘কে ট্রফি জিতবে’ আর ‘এই ম্যাচটা কে জিতবে’, দুটো আলাদা প্রশ্ন। ট্রফির বাজারে আবেগ, তারকা আর অতীত রেকর্ড সবই ঢুকে পড়ে। আর ম্যাচের হিসাব করা হয় শুধু দুই দলের সাম্প্রতিক ফর্ম আর শক্তি দেখে।
স্পোর্টরাডারের ম্যাচভিত্তিক হিসাব বলছে, ফ্রান্স-স্পেন সেমিতে ফ্রান্সের জেতার সম্ভাবনা ৪০.৯ শতাংশ, স্পেনের ২৯.৮ শতাংশ, আর ড্রয়ের ২৯.৩ শতাংশ। স্পেনের জেতা আর ড্র, এই দুটো যোগ করলে দাঁড়ায় প্রায় ৫৯ শতাংশ। মানে ৯০ মিনিটে স্পেনের না হারার সম্ভাবনাই বেশি।
আর ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা ম্যাচে স্পোর্টরাডার ওই একই হিসাব এগিয়ে রাখছে ইংল্যান্ডকে, ৩৭.৯ শতাংশ। আর্জেন্টিনার সম্ভাবনা ৩১.৩ শতাংশ।
এখানেই আসল কথাটা। ট্রফির বাজার আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলে দিচ্ছে, অথচ ম্যাচের হিসাব ইংল্যান্ডকে সামান্য এগিয়ে রাখছে। এই ফারাকটার ভেতরেই চমকের সম্ভাবনা লুকিয়ে।
স্পেন ধীরে হাঁটছে, কিন্তু হারছে না
স্পেনের এবারের বিশ্বকাপ মিশন দেখলে মনে হবে, তারা তাড়াহুড়ো করছে না। গ্রুপ পর্বে কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে ইউরো জয়ীরা সবাইকে হতাশ করেছিল।
ইয়াহু স্পোর্টস একটা তথ্য মনে করিয়ে দিচ্ছে। ২০১০ সালের ফাইনালের পর স্পেন বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে একটাও ম্যাচ জেতেনি। ২০১৪, ২০১৮, ২০২২, তিন আসরেই তারা নকআউটে গিয়ে থেমে গেছে। এবার অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে সেই রেকর্ড পেছনে ফেলে এসেছে স্পেন।
তারপর থেকে তারা ঠিকঠাক এগিয়েছে। পর্তুগালকে ১-০, বেলজিয়ামকে ২-১। দুই ম্যাচেই জয়সূচক গোলটা মিকেল মেরিনোর, আর দুবারই তিনি বেঞ্চ থেকে নেমে গোল করেছেন।
বেলজিয়ামের ম্যাচের গল্পটা এরকম। ৭১ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন তারকা গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। তার বদলি সেনে লামেন্স পাউ কুবার্সির দূরের শটটা ধরে রাখতে পারেননি, বলটা হাত ফসকে যায়। আর সেই ফসকে যাওয়া বলেই ঝাঁপিয়ে পড়েন মেরিনো। ফিফাকে তিনি পরে বলেছেন, ‘বিশ্বকাপ জিততে আর মাত্র দুই ম্যাচ, এটা স্বপ্নের মতো।’
স্পেনের রক্ষণ নিয়ে আরেকটা সংখ্যা আছে। গোলরক্ষক উনাই সিমোন এই টুর্নামেন্টে টানা ৫৬০ মিনিট কোনো গোল খাননি। ৫৬০ মিনিট মানে প্রায় ছয়টা ম্যাচের সমান। আগের রেকর্ড ছিল ১৯৯০ বিশ্বকাপে ইতালির ওয়াল্টার জেঙ্গার, ৫১৭ মিনিট। বেলজিয়ামের চার্লস ডি কেটেলারে গোল করে অবশেষে সেই ধারা ভাঙেন।
মানে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত স্পেন একটাও গোল হজম করেনি। এমন দলকে ‘ধীরগতির’ বললে সেটা আসলে প্রশংসাই হয়। আর একটা কথা ভুললে চলবে না। ইউরো ২০২৪-এর সেমিফাইনালে এই স্পেনই ফ্রান্সকে ২-১ হারিয়েছিল। তাই ফ্রান্সের সামনে দলটা নতুন নয়।
লামিনে ইয়ামাল এবার মাত্র এক গোল করেছেন, অ্যাসিস্ট নেই একটাও। কিন্তু প্রতিপক্ষের রক্ষণ তাকে সামলাতে গিয়ে এতটাই ব্যস্ত থাকে যে স্পেনের বাকিরা জায়গা পেয়ে যান।
এমবাপ্পে রেকর্ডের পর রেকর্ড
ফ্রান্সের গল্পটা উল্টো। এখানে ধীরগতির কিছু নেই।
ফক্স স্পোর্টসের হিসাবে টুর্নামেন্টে ফ্রান্স গোল করেছে ১৬টি, খেয়েছে মাত্র ২টি। নকআউট পর্বে একটাও গোল হজম করেনি। সুইডেনকে ৩-০, প্যারাগুয়েকে ১-০, মরক্কোকে ২-০।
দিদিয়ের দেশমের দল এই নিয়ে টানা তিনটি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠল। ইতিহাসে মাত্র তিনটি দল এটা করতে পেরেছে। আর সব মিলিয়ে এটা ফ্রান্সের অষ্টম সেমিফাইনাল।
কিলিয়ান এমবাপ্পে কথা আলাদা করে বলতে হয়। ওপেন দ্য ম্যাগাজিনের সংকলন অনুযায়ী এবার এমবাপ্পে যা যা করেছেন, ৮ গোল করে মেসির সঙ্গে যৌথভাবে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার আগে। সবচেয়ে কম বয়সে ২০টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলার রেকর্ড। দ্রুততম সময়ে ২০ বিশ্বকাপ গোলের রেকর্ড, বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ৮টি জয়সূচক গোল এবং ফরাসি ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ১০০ আন্তর্জাতিক গোলে অবদান (৬৪ গোল আর ৩৬ অ্যাসিস্ট)।
তবে ফ্রান্স শুধু একজনের উপরে নির্ভর করার দল নয়। উসমান দেম্বেলে আর মাইকেল ওলিসেও গোল পেয়েছেন। আর্সেন ওয়েঙ্গার প্রকাশ্যেই বলেছেন, ফ্রান্সই চ্যাম্পিয়ন হবে, শুধু স্পেনই তাদের থামাতে পারে।
ইংল্যান্ডের ৬০ বছর
ইংল্যান্ডের এই দলটা নিয়ে ফক্স স্পোর্টস একটা মজার তথ্য দিয়েছে। ছয় ম্যাচের মধ্যে মাত্র দুটিতে তারা এক গোলের বেশি ব্যবধানে জিতেছে। আর নকআউট শুরুর পর একটাতেও নয়। মেক্সিকোকে হারিয়েছে ৩-২ গোলে, নরওয়েকে অতিরিক্ত সময়ে ২-১।
সুন্দর ফুটবল নয়, কোনোমতে টিকে থাকার ফুটবল। কিন্তু টমাস টুখেলের দলে এমন একটা জিনিস আছে যা আগের ইংল্যান্ডগুলোতে ছিল না। জেতার পরও কোচ সন্তুষ্ট নন, আরও চান।
আর দলটাকে টেনে তুলছেন দুজন। অধিনায়ক হ্যারি কেন আর জুড বেলিংহাম নকআউট পর্বে মিলে করেছেন সাত গোল।
বেলিংহামের একটা পরিসংখ্যান এখানে দারুণ। মেক্সিকো আর নরওয়ে, পরপর দুই নকআউট ম্যাচে তিনি জোড়া গোল করেছেন। একই বিশ্বকাপে পরপর দুই নকআউট ম্যাচে জোড়া গোল করা শেষ খেলোয়াড়ের নাম দিয়েগো ম্যারাডোনা, ১৯৮৬ সালে।
আর সেই ম্যারাডোনাই ওই ১৯৮৬ সালে আজতেকায় ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিলেন, ‘হ্যান্ড অব গড’ আর শতাব্দীর সেরা গোল দিয়ে। এখন ম্যারাডোনার সেই রেকর্ড ছুঁয়েই বেলিংহাম নামছেন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে।
ইংল্যান্ডের সেমিফাইনালের হিসাবটা এরকম। এটা তাদের চতুর্থ বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল। এর আগে তারা শেষ চারে উঠেছিল ১৯৬৬, ১৯৯০ আর ২০১৮ সালে। ওই ১৯৬৬ সালেই তাদের একমাত্র বিশ্বকাপ জয়, তারপর কেটে গেছে ৬০ বছর। আর সর্বশেষ ২০১৮ সালে যখন তারা সেমিতে ওঠে, বেলিংহামের বয়স তখন মাত্র ১৫।
মেসির শেষ বিশ্বকাপ
আর্জেন্টিনার প্রেরণা অন্য জায়গায়। এটাই মেসির শেষ বিশ্বকাপ। সেমিফাইনাল অথবা ফাইনাল, দুটোর যেকোনো একটাই হবে বিশ্বকাপে তার শেষ ম্যাচ।
৩৮ বছর বয়সে তিনি এবার ৮ গোল করেছেন, ঠিক এমবাপ্পের সমান। ছয় বিশ্বকাপ মিলিয়ে তার অ্যাসিস্ট এখন ১০টি। সর্বশেষটি সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে, কর্নার থেকে ম্যাক অ্যালিস্টারের হেডে।
ইস্টার্ন আইয়ের হিসাবে, আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপে টানা ১২ ম্যাচ অপরাজিত। তারা চেষ্টা করছে ১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে শিরোপা ধরে রাখতে। ৬৪ বছরে এটা কেউ পারেনি।
কিন্তু পথটা মোটেও সহজ ছিল না। কেপ ভার্দেকে পেরোনোর পর মিসরের বিপক্ষে তারা পিছিয়ে পড়েছিল, সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে জেতে ৩-২ গোলে। আর সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে দশ জনের দলের সঙ্গেও তারা অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত ঝুলে ছিল। আলভারেজের ওই গোলটা না হলে খেলা টাইব্রেকারেই যেত।
তিনটি নকআউট ম্যাচের দুটিই অতিরিক্ত সময়ে গড়িয়েছে। ইংল্যান্ডেরও শেষ ম্যাচটা ছিল ১২০ মিনিটের। মানে আটলান্টার গরমে নামবে দুটি ক্লান্ত দল।
চমক কি আসবে
সোজা উত্তর, চমকের সব বিষয়ই এবারের বিশ্বকাপে আছে প্রচুর। আর চমকই যদি না হয়, তাহলে এটি কিসের বিশ্বকাপ!
ফ্রান্স ফেভারিট, এটা ঠিক। কিন্তু স্পেন প্রায় তিন বছর ধরে হারেনি এবং সর্বশেষ বড় টুর্নামেন্টের সেমিতে এই ফ্রান্সকেই হারিয়েছে।
আর্জেন্টিনা ভক্তদের কারণে প্রেডিকশন মার্কেট তথা বেটিং সাইটের পছন্দ, সেটাও ঠিক। কিন্তু তারা নকআউটে বারবার অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত ঝুলে আছে, আর ম্যাচের হিসাব ইংল্যান্ডকেই এগিয়ে রাখছে।
তাই স্পেন-ইংল্যান্ড ফাইনাল অসম্ভব কিছু নয়। বরং অঘটন বলতে যা বোঝায়, এটা তার চেয়ে অনেক বেশি যুক্তিসংগত। একদিকে থাকবে ৩৭ ম্যাচের বিশ্বরেকর্ড ছোঁয়া একটা দল, আর অন্যদিকে ৬০ বছরের অপেক্ষা শেষ করতে চাওয়া ক্ষুধার্ত একটা দল।
প্রথম সেমিফাইনাল, ফ্রান্স বনাম স্পেন, ডালাসে। বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ১টা। দ্বিতীয়টি, ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা, আটলান্টায়। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোর ১টা।
১৯ জুলাই মেটলাইফ স্টেডিয়াম এখনো জানে না কারা ফাইনালে আসছে, প্রেডিকশন মার্কেটও আসলে জানে না। জার্মানি-নেদারল্যান্ডস আগেই বাদ যাওয়ার পরে ব্রাজিলকে নরওয়ে বাদ করে দেওয়ার পর অন্তত এটুকু বলাই যায়।



