প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর: কোথায় সম্ভাবনা, কোথায় পরীক্ষা

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর: কোথায় সম্ভাবনা, কোথায় পরীক্ষা

সামুদ্রিক নিরাপত্তায় টহল জাহাজের অনুদান বাংলাদেশের উপকূলীয় সক্ষমতা বাড়ানোর একটি বাস্তব পদক্ষেপ। সমুদ্রে অপরাধ মোকাবিলা, দুর্ঘটনায় সাড়া দেওয়া এবং দুর্যোগকালীন কার্যক্রমে এই সক্ষমতা কাজে লাগতে পারে। তবে জাহাজ পাওয়ার সঙ্গে প্রশিক্ষিত জনবল, জ্বালানি, মেরামত ও পরিচালন ব্যয়ও যুক্ত থাকে। তাই সরঞ্জাম গ্রহণের পাশাপাশি তার দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারযোগ্যতা নিশ্চিত করা দরকার। বৃহত্তর কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের লক্ষ্য হওয়া উচিত নিজস্ব প্রয়োজন অনুযায়ী সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা সংরক্ষণ।

তবে সফর সম্পর্কে প্রচারে একটি তথ্যগত সংশোধন জরুরি। কিছু প্রতিবেদনে এবারই বাংলাদেশ–জাপান সম্পর্ক ‘কৌশলগত অংশীদারত্বে’ উন্নীত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। জাপানের সরকারি নথি অনুযায়ী, সেই উন্নীতকরণ হয়েছিল ২০২৩ সালের এপ্রিলে। এবারের সফরের গুরুত্ব বিদ্যমান অংশীদারত্বের ওপর দাঁড়িয়ে সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণে। পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে প্রতিষ্ঠিত কাঠামোর স্বীকৃতি বর্তমান সরকারের অর্জনকে খাটো করে না, বরং রাষ্ট্রীয় সম্পর্কের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে। কূটনীতির বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য এই নির্ভুলতা প্রয়োজন।

আরও ভালোভাবে করা যেত বিনিয়োগসংক্রান্ত ঘোষণার সঙ্গে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সংস্কারের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি যুক্ত করা। যৌথ বিবৃতিতেই কর, শুল্ক ছাড়করণ, অর্থ প্রেরণ ও লাইসেন্সের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও পূর্বানুমানযোগ্যতার প্রয়োজন স্বীকার করা হয়েছে। অর্থাৎ বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে দুই পক্ষের বোঝাপড়া রয়েছে। এখন প্রয়োজন নির্দিষ্ট দায়িত্ব ও সময়সীমা। কোন অনুমোদন কত দিনে হবে, অভিযোগ কোথায় নিষ্পত্তি হবে এবং নিয়ম পরিবর্তনের আগে ব্যবসায়ীরা কত সময় পাবেন—এসব বিষয়ে কার্যকর নিশ্চয়তা বিনিয়োগ আহ্বানের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়াবে।

Scroll to Top