যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সফরসঙ্গী হিসেবে যাওয়া জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেনের পিঠে ডিম নিক্ষেপের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।
আজ (২৩ সেপ্টেম্বর) মঙ্গলবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, হাসিনার পুলিশ লীগ, কোট-কাচারিও আখতারকে দমন করতে পারেনি। আর এসব উচ্ছিষ্ট, জনগণ কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত দালালরা বিদেশে বসে প্রতিবাদের প্রতীক আখতারকে দমন করতে পারবে?
তিনি আরও লিখেছেন, আওয়ামী দালালদের পক্ষে টকশো ও যুগলবন্দী কলামে যারা ‘সম্মতি’ উৎপাদন করে, তাদেরও কেন প্রত্যাখ্যান করা উচিত— এটা না বুঝলে, কিছুদিন পর এই আক্রমণের শিকার হতে আপনি প্রস্তুত থাকুন। আমরা সেই প্রজন্ম যারা হাসিনার গুলির সামনে মাথা নত করিনি, ভাঙা ডিমে কিছু যায় আসে না। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণিত হয়েছে আওয়ামী লীগ একটা সন্ত্রাসী সংগঠন।
এরপর সকাল ১১টার দিকে একই ইস্যুতে লেখক, সমালোচক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট সাদিকুর রহমান খানের একটি পোস্ট শেয়ার করেন। ওই পোস্টে বলা হয়, আখতার হোসেনের ওপর হামলা হয়েছে, এটা যেমন সত্য। হামলা হওয়ার পর আখতার হোসেন কোন ধরনের সেইফ এক্সিট না নিয়ে সাথে সাথেই ‘মুজিববাদ মুর্দাবাদ’ বলে রুখে দাঁড়িয়েছেন, এটাও সত্য। আওয়ামী লীগ আখতার হোসেনের ওপর হামলা করে প্রমাণ করল, আওয়ামী লীগ আগের মতোই আছে।
পোস্টে বলা হয়, আখতার হোসেনরাও আগের মতো আছে। আওয়ামী লীগ কি ব্যাক করবে? নিশ্চিত করে বলতে পারি না। করতেও পারে, নাও পারে। শুধু একটা কথা নিশ্চিত করে বলতে পারি, আওয়ামী লীগ যদি কখনও ব্যাক করে, ইউনূসরা সেইফ এক্সিট নিয়ে নিরাপদে যদি কখনও চলে যায়, আখতাররা তখনও আমার আপনার জন্য থাকবে। বুকে গুলি নিয়েও ছিল। পিঠে ডিম বা গ্রেনেড খেয়েও থাকবে। বিপ্লব কোন সুন্দর জিনিস না। বিপ্লব একদিনের কোন আবেগ না।
এতে বলা হয়, বিপ্লব একটা জার্নির নাম। বিপ্লব একটা পথ। যে পথে আমাদের হাঁটতে হবে বিরামহীন। খেতে হবে গুলি, গ্রেনেড, বিট্রেয়াল আরও অনেক কিছু। ভয় পাওয়ার দরকার নাই। খুব উত্তেজিত হওয়ারও কিছু নাই। শুধু এই পথে হাঁটার আগে কারা সেইফ এক্সিট নেয় আর কারা হামলার স্বীকার হয়েও দাঁড়িয়ে থাকে, ‘মুজিববাদ মুর্দাবাদ’ স্লোগান দিতে পারে, এই ডিফারেন্সটা মনে রাখলেই হবে। এই পথটা খুব কঠিন। আওয়ামী লীগের মত জংগী, সন্ত্রাসী একটা দলের সাথে লড়াইয়ে নামার আগে তাই আমার পরামর্শ একটাই, বন্ধু তোমার পথের সাথীকে চিনে নিও…..



