
ওয়াশিংটন, ১২ মে – যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আসন্ন চীন সফরকে কেন্দ্র করে বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূরাজনীতিতে নতুন আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সফরে ট্রাম্পের সফরসঙ্গী হিসেবে যোগ দিচ্ছেন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ১৬ জন প্রভাবশালী প্রধান নির্বাহী। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই প্রতিনিধি দলে টেসলা ও এক্সের মালিক ইলন মাস্ক, অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক এবং বোয়িংয়ের প্রধান নির্বাহী কেলি অর্টবার্গের মতো ব্যক্তিত্বরা রয়েছেন।
সফর চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বড় ধরনের বাণিজ্য চুক্তি ও বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, এই প্রতিনিধি দলে প্রযুক্তি, বিমান চলাচল, আর্থিক সেবা এবং কৃষি খাতের বড় প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা স্থান পেয়েছেন। এদের মধ্যে জিই অ্যারোস্পেসের ল্যারি কাল্প, মেটার ডিনা পাওয়েল ম্যাককরমিক, ব্ল্যাকরকের ল্যারি ফিঙ্ক এবং ব্ল্যাকস্টোনের স্টিফেন শোয়ার্জম্যানের নাম উল্লেখযোগ্য।
এছাড়াও কোয়ালকমের ক্রিস্টিয়ানো আমন, ভিসার রায়ান ম্যাকইনার্নি এবং মাস্টারকার্ডের মাইকেল মিব্যাকও এই সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে থাকছেন। বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক বাণিজ্য উত্তেজনা নিরসনে এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সফরের এজেন্ডায় বিরল খনিজ বা রেয়ার আর্থ সরবরাহ এবং কৃষি পণ্য আমদানির বিষয়টি প্রাধান্য পাবে।
এছাড়া বোয়িং প্রায় ৫০০টি ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজের একটি বিশাল ক্রয়াদেশ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। চুক্তিটি সম্পন্ন হলে এটি হবে ২০১৭ সালের পর চীনের পক্ষ থেকে বোয়িংয়ের প্রথম বড় কোনো ক্রয়াদেশ। তবে এবারের সফরে এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াংকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, এবারের সফরে মূলত কৃষি ও বাণিজ্যিক বিমান খাতের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, গত অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায় ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল। আসন্ন এই সফর সেই সমঝোতাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এস এম/ ১২ মে ২০২৬






