জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা ও প্রাণনাশের ঘটনার পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত এবং ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদারে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত ১২ মে রাতে সংঘটিত ঘটনার প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার ২১ মে দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রব এবং প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ.কে.এম. রাশিদুল আলম। তারা গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সামনে ঘটনার পর প্রশাসনের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১২ মে রাতে এক বহিরাগত দুষ্কৃতিকারী এক নারী শিক্ষার্থীকে টেনেহিঁচড়ে নির্জন ও অন্ধকার স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণচেষ্টা এবং প্রাণনাশের চেষ্টা চালায়। এ ঘটনার পর বিভিন্ন সংগঠনের দাবি-দাওয়ার প্রেক্ষিতে ১৪ মে উপাচার্যের সভাপতিত্বে জরুরি সভায় ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে কুইক রেসপন্স টিম গঠন, জরুরি নিরাপত্তা অভিযোগ জানাতে হটলাইন নম্বর চালু, শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিচয়পত্র বহন বাধ্যতামূলক করা, বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিচয়পত্র প্রদর্শন ও লগবুক রেজিস্ট্রেশন চালু।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত নির্মাণশ্রমিকদের পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক, চলমান প্রকল্পের শ্রমিকদের তথ্য নিরাপত্তা শাখায় জমা, দোকান কর্মচারীদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও মালিক প্রদত্ত আইডি সংরক্ষণ, ভ্রাম্যমাণ দোকান অপসারণ এবং দোকান কর্মচারীদের তথ্যভান্ডার তৈরি করে আইসিটি সেলে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা জোরদারে প্রতিটি গেটে দিন-রাতের শিফটে প্রহরী সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে এবং অতিরিক্ত প্রহরী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ত্রুটিপূর্ণ গেট ও প্রাচীর দ্রুত মেরামত, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আলোকসজ্জা, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও নজরদারি বাড়ানোর কাজও শুরু হয়েছে।
এছাড়া আল বেরুনী হল (টিনশেড) পরিত্যক্ত ঘোষণা করে তা ভেঙে ল্যান্ডস্কেপ উন্নয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুলিং ও র্যাগিং প্রতিরোধে “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বুলিং ও র্যাগিং প্রতিরোধ সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৩” অনুযায়ী সিন্ডিকেট সভায় একটি স্থায়ী কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ঘটনার দায় নিরূপণ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় দায়ভার পর্যালোচনার জন্য গত ১৬ মে সাত সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। প্রশাসনের দাবি, কমিটি বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তার ছবি প্রকাশের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। জেলা পুলিশ, , র্যাব সদর দপ্তর, ডিবি, পিবিআই, সিআইডি ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন টিম ম্যানুয়ালি অনুসন্ধান চালাচ্ছে। একই সঙ্গে পুলিশ সাইবার টিম ও র্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইং প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানও অব্যাহত রেখেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, আসামি গ্রেপ্তারে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযুক্তকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসন আশা করছে, অভিযুক্তকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান এবং সহকারী প্রক্টরবৃন্দ।





