বিশ্ববাজারে বড় ধরনের দরপতনের পর বুধবার (২০ মে) স্বর্ণের দামে আবারও কিছুটা ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। মূলত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-এর চলমান উত্তেজনা দ্রুত নিরসনের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। এর ফলে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে আশঙ্কাও কিছুটা কমেছে, যা ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে স্বর্ণের বাজারে।

আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে চার হাজার ৪৯৯ দশমিক ৭২ ডলারে পৌঁছেছে। যদিও দিনের শুরুতে স্বর্ণের দাম গত সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে গিয়েছিল। অন্যদিকে, আগামী জুন মাসে সরবরাহযোগ্য মার্কিন গোল্ড ফিউচারের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স চার হাজার ৫০২ দশমিক ১০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
ধাতু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হাই রিজ ফিউচারস-এর পরিচালক ডেভিড মেগার বলেন, মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা টানা বাড়লেও বর্তমানে তা কিছুটা কমেছে। এর ফলে স্বর্ণের দাম সাম্প্রতিক নিম্নমুখী অবস্থান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে।
১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি নোটের মুনাফা মঙ্গলবার এক বছরের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছানোর পর বুধবার তা কিছুটা কমে আসে। সাধারণত বন্ডের মুনাফা বা সুদের হার বেড়ে গেলে স্বর্ণের চাহিদা কমে যায়, কারণ স্বর্ণ থেকে সরাসরি কোনো সুদ পাওয়া যায় না।
ডেভিড মেগার আরও বলেন, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান কিংবা হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত হওয়ার মতো যেকোনো ইতিবাচক পরিস্থিতি স্বর্ণের বাজারের জন্য ভালো খবর। এতে সুদের হার কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়, যা স্বর্ণের দাম বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও মন্তব্য করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হতে পারে। তার এমন মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে তেল সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে বিনিয়োগকারীরা এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম বাড়লে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পায় এবং তা নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে উচ্চ সুদের হার বজায় রাখতে হয়, যা সাধারণত স্বর্ণের বাজারের জন্য নেতিবাচক।
এখন বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি রয়েছে ফেডারেল রিজার্ভ-এর এপ্রিল মাসের নীতি নির্ধারণী সভার প্রতিবেদনের দিকে। বুধবার প্রকাশিত হওয়ার কথা থাকা এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ সুদের হার সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে।
স্বর্ণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। স্পট সিলভারের দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৫ দশমিক ২৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্ল্যাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে এক হাজার ৯৩২ দশমিক ৩৭ ডলারে পৌঁছেছে। তবে প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ১ শতাংশ কমে এক হাজার ৩৫২ দশমিক ৭৫ ডলারে নেমে এসেছে।




