
ছবি: সংগৃহীত।
রাস্তায় কাক দেখলে আমরা হয়তো খুব একটা গুরুত্ব দিই না। কিন্তু এই পাখির স্মৃতিশক্তি যে বেশ ভালো, তা জানলে অবাক হতে পারেন। গবেষণা বলছে, কাক মানুষের চেহারা মনে রাখতে পারে। শুধু তা-ই নয়, কোনো মানুষকে বিপজ্জনক মনে হলে পরে তাকে দেখেও চিনতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে কাকের আচরণ নিয়ে করা একাধিক গবেষণায় এমন তথ্য পাওয়া গেছে। গবেষকেরা দেখেছেন, কোনো মানুষের সঙ্গে কাকের খারাপ অভিজ্ঞতা হলে সেটি সহজে ভুলে যায় না। এমনকি সেই মানুষের চেহারা মনে রাখে।
একটি গবেষণায় কাক ধরার সময় গবেষকেরা বিশেষ ধরনের মুখোশ ব্যবহার করেছিলেন। পরে একই ধরনের মুখোশ পরা কাউকে দেখলে কাকেরা জোরে ডাকতে শুরু করে। কখনো দলবেঁধে সেই ব্যক্তিকে তাড়াও করে। সবচেয়ে অবাক করার মতো বিষয় হলো, এই আচরণ কয়েক বছর পরও দেখা গেছে।
কাক শুধু নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই শেখে না, অন্য কাকের কাছ থেকেও শেখে। কোনো কাক কোনো মানুষকে বিপজ্জনক মনে করে সতর্ক ডাক দিলে আশপাশের অন্য কাকও বিষয়টি খেয়াল করে। পরে তারাও ওই মানুষকে দেখলে সতর্ক হতে পারে। অর্থাৎ একটি কাকের অভিজ্ঞতা অন্য কাকের কাছেও পৌঁছে যায়।
এখানেই শেষ নয়। কাকের বুদ্ধিমত্তার আরও অনেক উদাহরণ রয়েছে। কাক ও দাঁড়কাকসহ কর্ভিডি পরিবারের কয়েকটি পাখি সমস্যা সমাধান করতে পারে এবং খাবার সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন ধরনের বস্তু ব্যবহার করতে পারে। কোনো কাজ সহজে করার উপায় তারা অভিজ্ঞতা থেকে শিখতেও পারে।
তবে মানুষের চেহারা মনে রাখার বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি গবেষণা হয়েছে আমেরিকান কাক নিয়ে। গবেষণাগুলো থেকে বোঝা যায়, মানুষের সঙ্গে তাদের আগের অভিজ্ঞতা পরবর্তী আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই কোনো কাককে বিরক্ত করার পর যদি মনে করেন, ‘এত পাখির মধ্যে আমাকে আবার চিনবে কীভাবে?’ তাহলে একটু সাবধান। কাক হয়তো আপনাকে মনে রেখেছে!
ছোট্ট এই পাখিটির এমন স্মৃতিশক্তি ও শেখার ক্ষমতা প্রকৃতি সম্পর্কে আমাদের ধারণাকেই আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…


