
ওয়াশিংটন, ১ সেপ্টেম্বর – ইরানের বিরুদ্ধে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বিষয়টি নিয়ে ওভাল অফিসে এক সাংবাদিক সরাসরি প্রশ্ন করলে তিনি বেশ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট উক্ত প্রশ্নটিকে অহেতুক এবং বোকার মতো বলে মন্তব্য করেছেন।
সোমবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের কাছে জানতে চাওয়া হয় যে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা বাতিল করছেন কি না। জবাবে তিনি বলেন যে আমি এটি নাকচ করে দিচ্ছি এবং এর কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। তিনি আরও বলেন যে এটি অত্যন্ত অদ্ভুত এবং বোকার মতো একটি প্রশ্ন।
ট্রাম্প দাবি করেন যে ইরান ইতোমধ্যে সামরিকভাবে পরাজয় বরণ করেছে। তাই দেশটির বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কোনো প্রয়োজন নেই। তিনি নিজের বক্তব্যে অটল থেকে বলেন যে তারা তো পুরোপুরি পরাজিত শক্তি। আমি তাদের পরাজিত করেছি এবং এখন তাদের ওপর কি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে হবে? এমন প্রশ্ন অবান্তর।
গালফ নিউজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী ট্রাম্পের এই বক্তব্য কোনো নতুন পারমাণবিক নীতি নয়। তিনি মূলত এটিই বোঝাতে চেয়েছেন যে ইরানের বর্তমান অবস্থায় পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কোনো উপযোগিতা নেই। এর আগে ট্রাম্পের সাবেক সন্ত্রাস দমন উপদেষ্টা জো কেন্ট এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে প্রচলিত সামরিক পন্থায় ইরান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা সম্ভব না হলে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক শক্তি প্রয়োগ করতে পারে।
সেই বক্তব্যের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মার্কিন বাহিনী হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী লারাক দ্বীপে ইরানের দুটি রকেট স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। গত জুলাই মাসের পর এটিই ইরানের মূল ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে ওই স্থাপনাগুলো থেকে সমুদ্র মাইন বহনকারী রকেট মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছিল যা আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য বড় ঝুঁকি হতে পারত। হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে প্রয়োজনে ওয়াশিংটন আবারও সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।
এস এম/ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১. ট্রাম্প কি ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু হামলার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন?
হ্যাঁ। সোমবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করেন।
২. ইরানে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের প্রশ্ন উঠল কেন?
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নতুন করে উত্তপ্ত হওয়ার পাশাপাশি সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা জো কেন্টসহ কয়েকজনের বক্তব্যে সম্ভাব্য পারমাণবিক উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে এসব বক্তব্যকে মার্কিন সরকারের ঘোষিত নীতি হিসেবে দেখা উচিত নয়।
৩. লারাক দ্বীপে মার্কিন বাহিনী কেন হামলা চালায়?
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরানি বাহিনী হরমুজ প্রণালিতে সমুদ্র মাইন মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সেই সম্ভাব্য হুমকি ঠেকাতেই দুটি রকেট লঞ্চারে হামলা চালানো হয়।
৪. লারাক হামলার পর ইরান কী করেছে?
ইরান জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতেও মার্কিন অবস্থান লক্ষ্য করে হামলার কথা জানিয়েছে ইরানি পক্ষ।
৫. ট্রাম্প কি ইরানের বিরুদ্ধে আরও হামলা করতে পারেন?
ট্রাম্প প্রচলিত সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। তবে ভবিষ্যতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে।
