
ওয়াশিংটন, ০২ অক্টোবর- ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া এবং সামরিক পদক্ষেপ থমকে যাওয়ার পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে তৃতীয় বিমানবাহী রণতরি পাঠাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর আবারও বড় ধরনের বিমান হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
আগামী মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ট্রাম্পের যুদ্ধনীতি যে দ্রুত বদলাচ্ছে এবং জটিল হয়ে উঠছে, নতুন এই সামরিক মোতায়েনের মধ্য দিয়ে সেটি আরও স্পষ্ট হয়েছে। শুরুতে ট্রাম্প মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে এখন তিনি সতর্ক করে বলেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরও এই সংঘাত আরও বাড়িয়ে তোলার বিষয়টি তাদের জন্য কার্যকর এবং খোলা একটি বিকল্প হিসেবে থাকবে।
মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হওয়া নতুন মার্কিন বহরে রয়েছে বিশেষ সুবিধাসম্পন্ন একটি উভচর হামলাকারী দল (অ্যামফিবিয়াস অ্যাটাক গ্রুপ)। এতে সাত হাজারের বেশি নৌসেনা এবং দুই হাজার মেরিন সেনা সদস্য রয়েছেন। এই বহরের সঙ্গে রয়েছে ‘ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট’ ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ এবং ‘ইউএসএস মেকিন আইল্যান্ড’ অ্যামফিবিয়াস রেডিনেস গ্রুপ। এর সঙ্গে দুটি উভচর অবতরণকারী জাহাজও রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা সংবেদনশীল এই সামরিক অভিযানের বিষয়ে জানিয়েছেন, নতুন এই বাহিনী পৌঁছালে আগামী অক্টোবরের শেষ নাগাদ ওই অঞ্চলে একসঙ্গে তিনটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরি অবস্থান করবে।
মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে থাকা মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে নতুন এই দল যুক্ত হলে সেখানে মার্কিন নৌ ও মেরিন সেনাদের মোট সংখ্যা ২০ হাজারের বেশি হবে, যা সাম্প্রতিক ইতিহাসে অস্বাভাবিকভাবে বড় একটি সংখ্যা। এর সঙ্গে থাকবে শত শত যুদ্ধবিমান। এর আগে গত এপ্রিল মাসে ২০০৩ সালের পর প্রথমবারের মতো মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর তিনটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ একসঙ্গে মোতায়েন করা হয়েছিল।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ‘ইউএসএস জর্জ এইচডব্লিউ বুশ’ এবং ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন’ নামের দুটি রণতরি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর পাশাপাশি ‘ইউএসএস বক্সার’ অ্যামফিবিয়াস রেডিনেস গ্রুপও দায়িত্বে রয়েছে। মূলত প্রশান্ত মহাসাগরে মোতায়েন থাকা ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন’-কে ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে আনা হয়েছিল। এর ক্রু সদস্যরা টানা ২৬০ দিনের বেশি সময় সাগরে কাটানোর পর ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। তবে ‘ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট’ এসে পৌঁছালে ‘জর্জ ওয়াশিংটন’-কে আবার জাপানের উপকূলীয় সাগরে ফিরিয়ে নেওয়া হতে পারে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ‘টাইম’ সাময়িকীকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানে নতুন করে হামলার ইঙ্গিত আরও জোরালো করেছেন। তিনি বলেছেন, আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে বোমাবর্ষণ আরও জোরদার করা হতে পারে এবং এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তবে নিজের নির্দিষ্ট সামরিক কৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, তিনি বিস্তারিত বলতে পারবেন না, কারণ জানতে চাওয়া হচ্ছে ঠিক কোন জায়গায় বোমাবর্ষণ করা হবে।
গত সোমবার নেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বলেন, ইরান থেকে আসা সর্বশেষ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এক বছর আগে যেসব শর্তে তিনি অনুমোদন দিতেন না, এখনো সেসব শর্তে অনুমোদন দেওয়া সম্ভব নয়।
ইরানের পক্ষ থেকে বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ খুলে দেওয়ার যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, সেটিকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, পুরো প্রস্তাবটি আসলে যথেষ্ট ভালো ছিল না।
ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা হারাতে থাকা এই যুদ্ধের কারণে নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির জয়লাভের সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প প্রথমে বলেন, এমনটা হওয়া অসম্ভব নয়। তবে পরে বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, মূলত এটি তাদের জেতার ক্ষেত্রেই সাহায্য করা উচিত। কারণ এর ফলে ইরানের হাতে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, বিশ্বের শতভাগ মানুষই চায় না ইরানের কাছে পারমাণবিক হামলা চালানোর সক্ষমতা থাকুক। তাঁর মতে, বিষয়টি সঠিকভাবে তুলে ধরা হলে তা নির্বাচনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, আর তা না হলে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতির কারণ হতে পারে।
এস এম/ ০২ অক্টোবর ২০২৬



