সংবিধান থেকে ‘সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা’ বাদ দিতে আইনি নোটিশ

আসন্ন সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়াকে সামনে রেখে বাংলাদেশের সংবিধান থেকে ‘সমাজতন্ত্র’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংশোধন ও জাতীয় গণভোটের মাধ্যমে এ দুটি বিষয় সংবিধান থেকে অপসারণে প্রয়োজনীয় আইনি ও সাংবিধানিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে এ নোটিশ পাঠান।

আইনি নোটিশ

রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব (জন বিভাগ), জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নোটিশের প্রাপক করা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে সরকার জাতীয় সংসদের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নিতে পারে এবং পরবর্তীতে জনগণের অনুমোদনের জন্য তা জাতীয় গণভোটে দেওয়া হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে সংবিধানের প্রস্তাবনা ও মৌলিক নীতিতে থাকা ‘সমাজতন্ত্র’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

নোটিশদাতার দাবি, ‘সমাজতন্ত্র’ ব্যক্তিমালিকানা ও বেসরকারি বিনিয়োগের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। মুক্তবাজার অর্থনীতির বর্তমান বাস্তবতায় সংবিধানের প্রস্তাবনা, ৮ ও ১০ অনুচ্ছেদে ‘সমাজতন্ত্র’ বহাল থাকা বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, ব্যক্তিমালিকানা ও বিদেশি বিনিয়োগের সুরক্ষায় সংবিধান থেকে ‘সমাজতন্ত্র’ বাদ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ নিয়ে নোটিশে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় বাস্তবতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, এ ভূখণ্ডের দীর্ঘ আইনি ও সামাজিক ইতিহাসে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ নামের মতবাদের চর্চা ছিল না। নোটিশে ভি. ডি. কুলশ্রেষ্ঠের Landmarks in Indian Legal and Constitutional History গ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়ে এ অঞ্চলের আইন ও শাসনব্যবস্থার বিভিন্ন ঐতিহাসিক পর্যায়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

নোটিশে আরও দাবি করা হয়েছে, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মূল দাবির মধ্যেও ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ ছিল না। মুক্তিযুদ্ধ মূলত তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক বৈষম্য, লুণ্ঠন ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে সংঘটিত হয়েছিল বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

এতে সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদে জনগণকে রাষ্ট্রের সব ক্ষমতার মালিক হিসেবে উল্লেখ করার বিষয়টি তুলে ধরে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদে নাগরিকদের ধর্ম পালন, চর্চা ও প্রচারের যে মৌলিক অধিকার দেওয়া হয়েছে, ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ নীতির সঙ্গে তার সাংঘর্ষিকতা রয়েছে। আইনি নোটিশে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংশোধন এবং জাতীয় গণভোটের মাধ্যমে ‘সমাজতন্ত্র’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ বাদ দেওয়ার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

নোটিশে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া না হলে দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব, ঐতিহাসিক বাস্তবতা ও জনগণের মৌলিক অধিকার সুরক্ষার দাবিতে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে।

Scroll to Top