
তেহরান, ২৭ সেপ্টেম্বর – ইরানকে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও মূলধারার আর্থিক ব্যবস্থা থেকে চিরতরে বিচ্ছিন্ন করতে অল-আউট অভিযানে নেমেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের ভাষায় ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামের এই অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক যুদ্ধ এখন মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার দেশগুলোতে তীব্র কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বব্যাপী নানামুখী কূটনৈতিক চাপের মুখে বাধ্য হয়ে ইরানের ফ্লাইট বাতিল এবং ব্যাংক লেনদেন বন্ধ করা শুরু করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক ও ওমানের মতো শীর্ষ বাণিজ্যিক অংশীদারেরা।
অবরুদ্ধ আকাশপথ: বন্ধ প্রধান ফ্লাইট রুট
মার্কিন অর্থ দপ্তরের (ইউএস ট্রেজারি) বিশেষ কূটনৈতিক দলের চাপের মুখে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের বিপর্যয়ে পড়েছে ইরানের এভিয়েশন খাত:
তুরস্ক ও ওমানের বিমান নিষেধাজ্ঞা: ওমান ও তুরস্ক তাদের আকাশসীমায় ইরানের অন্যতম বৃহত্তম এয়ারলাইন ‘মাহান এয়ার’ এর প্রবেশ ও সব ধরনের ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) কঠোর অবস্থান: দুবাই ও আবুধাবিসহ আমিরাতের সব বিমানবন্দরে ইরানি এয়ারলাইনগুলোর সমস্ত ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক রুটে পথরুদ্ধতা: বিভিন্ন দেশের ওপর ওয়াশিংটনের নজিরবিহীন চাপের ফলে বিশ্বজুড়ে ইরানের বিমান চলাচলের পরিসর মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়ে এসেছে।
চরম আর্থিক সংকট: ইউএই ও তুরস্কে ব্যাংকিং লেনদেন বন্ধ
ইরানের তেল পাচার, নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর পথ এবং বেআইনি অর্থ স্থানান্তরের পথ চিরতরে রুদ্ধ করতে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও শীর্ষ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ওপর নজরদারি বৃদ্ধি করেছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ।
শীর্ষ বাণিজ্যিক ব্যাংকের লেনদেন স্থগিত: ইউএই ও তুরস্কের শীর্ষ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ইতিমধ্যেই ইরানের সঙ্গে যাবতীয় অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক লেনদেন বন্ধ করে দিয়েছে।
ব্যাংকিং নেটওয়ার্কে কঠোর পদক্ষেপ: ইউএই-ভিত্তিক বেশ কিছু সন্দিগ্ধ ব্যাংকিং কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইরানের অর্থ প্রবাহের গোপন নেটওয়ার্ক সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে।
কী এই ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’?
গত ২৪ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে সূচিত হওয়া ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর মূল লক্ষ্য হলো বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ পথগুলো অবরুদ্ধ করে তেহরানের ওপর চরম অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ বিশ্বের বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইরানের গোপন পদ্ধতিগুলোর তথ্য সরবরাহ করছে, যাতে আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলো ইরানের অর্থ সংগ্রহ ও সম্পদ হস্তান্তরের চেষ্টা নস্যাৎ করতে পারে।
ওয়াশিংটনের এই বহুমুখী আর্থিক হামলায় যখন ইরানের বিমান ও ব্যাংকিং খাত স্থবির হয়ে পড়ছে, তখন তেহরান শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের এসব পদক্ষেপকে চরম অন্যায্য ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে তীব্র বিরোধিতা করে আসছে।
এনএন/ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬



