
ঢাকা, ১০ মে – আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপি প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করেছে পরিকল্পনা কমিশন। শনিবার কমিশনের এক বর্ধিত সভায় এডিপির এই খসড়া প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
সরকারি সূত্রমতে আগামী ১৬ মে খাতভিত্তিক বরাদ্দের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে এবং ১৮ মে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভায় এটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করার কথা রয়েছে।
প্রস্তাবিত এডিপির মোট আকারের মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এছাড়া স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়ন যোগ করলে মোট উন্নয়ন ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়াবে ৩ লাখ ৮ হাজার ৯২৪ কোটি টাকার বেশি।
এবারের এডিপিতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন ও বিদ্যুৎ খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও বাজেটের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে থোক বরাদ্দ।
বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং বিশেষ উন্নয়ন সহায়তার জন্য প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে যা মোট উন্নয়ন বাজেটের এক তৃতীয়াংশের বেশি। এর বিপরীতে সরাসরি প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ৮১ হাজার ৭১১ কোটি টাকা।
খাতভিত্তিক বরাদ্দে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাত যেখানে ৫০ হাজার ৯২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। শিক্ষা খাতে ৪৭ হাজার ৫৯১ কোটি টাকা এবং স্বাস্থ্য খাতে ৩৫ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৩২ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বিপুল পরিমাণ থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে যা প্রকল্পভিত্তিক বরাদ্দের চেয়েও বেশি। মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে বরাদ্দের শীর্ষে রয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার আশানুরূপ না হওয়ায় এত বড় উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে অর্থনীতিবিদরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
প্রস্তাবিত এডিপিতে মোট ১ হাজার ১২১টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে যার মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্পই রয়েছে ৯৪৯টি।
এনএন/ ১০ মে ২০২৬





