হরমুজ প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে ইরানকে স্বেচ্ছামূলক ভিত্তিতে পরিষেবা ফি আদায়ের সুযোগ দেওয়ার একটি প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলো। ওমানের উত্থাপিত এ প্রস্তাবকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের কারণে সৃষ্ট তেল বাণিজ্য সংকট নিরসনের সম্ভাব্য পথ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।
রয়টার্সের বরাতে উপসাগরীয় একটি সূত্র জানায়, ওমানের প্রস্তাব অনুযায়ী হরমুজ প্রণালী ব্যবহারের জন্য কোনো বাধ্যতামূলক মাশুল আরোপ করা হবে না। জাহাজগুলো স্বেচ্ছায় পরিষেবা ফি দিতে পারবে। এ ব্যবস্থাটি মালাক্কা প্রণালীর বিদ্যমান মডেলের মতো হবে, যেখানে নৌচলাচল, পরিবেশ সুরক্ষা এবং অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য জাহাজগুলোকে স্বেচ্ছামূলক অর্থ প্রদানের আহ্বান জানানো হয়।
যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হতো। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর ইরান নিজেদের জাহাজ ছাড়া অন্য জাহাজের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে। পরবর্তীতে একটি সমঝোতার মাধ্যমে আংশিকভাবে চলাচল শুরু হলেও জুলাইয়ের শুরুতে তা ভেঙে পড়ে।
ইরান প্রস্তাব দিয়েছে, ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে প্রণালী পরিচালনা করে ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে পরিষেবা ফি নেওয়া হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো, যুদ্ধের আগের মতোই কোনো ধরনের অর্থ প্রদান ছাড়াই আন্তর্জাতিক নৌপথে অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। ওয়াশিংটনের মতে, বাধ্যতামূলক ফি আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সোমবার ওমান ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে হরমুজ প্রণালী নিয়ে আলোচনা করেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।


