‘জার্নালিজম আউট লাউড’–এর অর্থ মনোযোগ হারিয়ে ফেলা এই পৃথিবীতে নিজেদের প্রাসঙ্গিক রাখা এবং পরিকল্পিতভাবে সন্দেহ ছড়িয়ে দেওয়ার এই যুগে মানুষের আস্থা অর্জন করা।
সুখবর হলো, মানুষ এখনো মানুষের ওপর বিশ্বাস রাখে। ইনফ্লুয়েন্সার এবং তথাকথিত ‘নিউজ ইনফ্লুয়েন্সাররা’ যে প্রভাব রাখেন ও গ্রহণযোগ্যতা পান, তাতে আমরা এটি দেখতে পাই।
আর এখানেই সাংবাদিকতার জন্য একটি বড় সুযোগ লুকিয়ে রয়েছে। আমাদের বার্তাকক্ষ ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে চমৎকার সব সাংবাদিক রয়েছেন, যাঁরা বছরের পর বছর ধরে তাঁদের নিষ্ঠা, কাজ ও দক্ষতার মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। আসুন, আমরা এই সাংবাদিকদের সামনে নিয়ে আসি। তাঁরা কে, সেই পরিচয়ে নন, বরং তাঁরা সাংবাদিকতার মানদণ্ড বজায় রেখে কী করেন, তার ভিত্তিতে। এভাবেই আমরা আস্থাভাজন ‘নিউজ ইনফ্লুয়েন্সার’ তৈরি করতে পারি। তবে এই পরিচিতির জন্য চড়া মূল্যও দিতে হয়।
বিশ্বজুড়ে স্বৈরাচারী শাসক ও সরকারের সংখ্যা বাড়ছে এবং রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক স্বার্থে সত্যকে বলি দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে সাংবাদিকতা দিন দিন আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘৃণা আর হয়রানিগুলো বাস্তবে সাংবাদিকদের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। নিহত সাংবাদিকদের সংখ্যা বেড়েছে। বিশ্বজুড়ে ৫০০ জনের বেশি সাংবাদিক এখন কারাগারে বন্দী। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারসের তথ্য অনুযায়ী, দিন দিন আরও বেশি সাংবাদিক নির্বাসনে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। কিন্তু নির্বাসনে থেকেও অনেকেই নিরাপদ থাকতে পারছেন না। স্বৈরাচারী সরকারগুলো তাদের দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বহু দূর পর্যন্ত নিজেদের প্রভাব বিস্তার করছে। নির্বাসনে থাকা সাংবাদিকেরাও নিয়মিত হুমকি ও চাপের মুখে পড়ছেন। এক দেশ থেকে অন্য দেশে নিপীড়নের (ট্রান্সন্যাশনাল রিপ্রেশন) মাত্রা এখন এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এরপরও বিষয়টিকে সেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না, অন্তত জার্মানিতে।
ডিডব্লিউতে কর্মরত আমাদের অনেক সহকর্মীও এ ধরনের নিপীড়নের শিকার। আমি সত্যিই মনে করি, এই বিষয়টি নিয়ে আমাদের আরও বেশি কথা বলা উচিত।

