
মাদ্রিদ, ১১ জুলাই – ম্যাচের শুরু থেকেই মাঠজুড়ে ছিল ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের দাপট। টিকিট ছিল হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালের। এমন এক অগ্নিপরীক্ষার ম্যাচে আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণের রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে শেষ হাসিটা হাসল লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরাই। বেলজিয়ামকে ২-১ গোল ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে নিজেদের জায়গা পাকা করে নিল স্পেন।
রুইজের হাত ধরে স্পেনের শুভসূচনা
ম্যাচের শুরুতেই আজ স্প্যানিশ একাদশে চমক ছিল। ইনজুরি বা কৌশলগত কারণে পেদ্রির পরিবর্তে শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন ফাভিয়ান রুইজ। কোচের সেই আস্থার প্রতিদান দিতে একদমই সময় নেননি এই মিডফিল্ডার। ম্যাচের ৩০তম মিনিটে চমৎকার এক দলীয় আক্রমণ থেকে স্পেনকে প্রথম লিড এনে দেন তিনি।
ডি-বক্সের ঠিক বাইরে থেকে দানি ওলমো একটি জোরালো শট নেন। বেলজিয়ান প্রাচীর থিবো কোর্তোয়া দুর্দান্তভাবে সেই শট প্রতিহত করলেও বলটি পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে পারেননি। রিবাউন্ডে ধেয়ে আসা বল ধরে কোনো ভুল করেননি রুইজ। তাঁর নেওয়া শটটি বেলজিয়ান ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে সরাসরি জালে জড়িয়ে যায়। ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে তখন চরম চাপে পড়ে বেলজিয়াম।
স্পেনের রক্ষণদুর্গ ভেঙে বেলজিয়ামের প্রত্যাবর্তন
গোল হজমের পর ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে বেলজিয়াম। স্পেনের যে রক্ষণভাগকে এতকাল “অভেদ্য” মনে হচ্ছিল, সেখানে ফাটল ধরায় তারা। ম্যাচের ৪১তম মিনিটে এক নিখুঁত কাউন্টার-অ্যাটাক থেকে স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমনকে পরাস্ত করেন চার্লস ডি কেটেলারা।
চলতি টুর্নামেন্টে এটিই ছিল স্পেনের জালে জড়ানো প্রথম গোল। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ক্লিনশিট বজায় রাখা স্পেনের শক্তিশালী রক্ষণদুর্গ অবশেষে ভাঙতে সফল হলো বেলজিয়াম। ডি কেটেলারার এই সমতাসূচক গোলের পর ১-১ ব্যবধানে বিরতিতে যায় দুই দল।
কোর্তোয়ার চোট এবং শেষ মুহূর্তের মেরিনো ম্যাজিক
দ্বিতীয়ার্ধে খেলতে নেমে বড়সড় ধাক্কা খায় বেলজিয়াম শিবির। চোটের শিকার হয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তাদের এক নম্বর গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। তাঁর পরিবর্তে স্পেনের আক্রমণভাগকে আটকানোর কঠিন দায়িত্ব নিয়ে গোলপোস্টে নামেন তরুণ সেনে ল্যামেন্স।
দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই একের পর এক আক্রমণ চালালেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা মিলছিল না। যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে, ঠিক তখনই আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ম্যাচের ৮৮তম মিনিটে বেলজিয়ামের ডি-বক্সের ভেতর এক জটলা থেকে বল পেয়ে যান স্প্যানিশ মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো। বল পাওয়া মাত্রই ঠান্ডা মাথায় নিখুঁত শটে বেলজিয়ামের গোলপোস্টের ঠিক মাঝখান দিয়ে বল জালে জড়ান তিনি।
শেষ মুহূর্তের এই গোলের পর বেলজিয়াম আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি। ফলে ২-১ গোলের মহানাটকাীয় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্পেন, আর সেই সাথে নিশ্চিত হয় তাদের সেমিফাইনালের টিকিট।
এনএন/ ১১ জুলাই ২০২৬






