শেখ নুর ইসলাম ও পরিবারের কানাডার ব্যবসা-লেনদেনের ১৬৩টি নথি পর্যালোচনা এনবিআরের – DesheBideshe

শেখ নুর ইসলাম ও পরিবারের কানাডার ব্যবসা-লেনদেনের ১৬৩টি নথি পর্যালোচনা এনবিআরের – DesheBideshe


শেখ নুর ইসলাম ও পরিবারের কানাডার ব্যবসা-লেনদেনের ১৬৩টি নথি পর্যালোচনা এনবিআরের – DesheBideshe
কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির

ঢাকা, ০২ অক্টোবর- কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুর শেখ নুর ইসলাম ও তাঁর পরিবারের কানাডায় ব্যবসা, সম্পদ এবং আর্থিক লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য হাতে পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডতে ১৭টি সন্দেহজনক লেনদেন, সন্দেহজনক লেনদেনের চেষ্টার দুটি ঘটনা, বড় অঙ্কের নগদ লেনদেনের ১১৮টি প্রতিবেদন, ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) ও আয়কর গোয়েন্দা ইউনিট। প্রায় ১০ বছরের লেনদেন পর্যালোচনা করে কানাডায় তাঁদের একাধিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক হিসাবের সন্ধান পাওয়া গেছে।

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালের ২৬ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত শেখ নুর ইসলাম ও তাঁর পরিবারের আর্থিক কর্মকাণ্ডের ১৬৩টি প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এসব নথিতে সন্দেহজনক লেনদেন, বড় অঙ্কের নগদ লেনদেন, ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার এবং আন্তদেশীয় অর্থ লেনদেনের তথ্য রয়েছে।

প্রতিবেদনগুলোতে ১৭টি সন্দেহজনক লেনদেন, সন্দেহজনক লেনদেনের চেষ্টার দুটি ঘটনা, বড় অঙ্কের নগদ লেনদেনের ১১৮টি প্রতিবেদন, ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের ২৬টি নথি এবং আন্তদেশীয় লেনদেনের দুটি প্রতিবেদনের তথ্য পাওয়া গেছে।

গোয়েন্দা নথিতে শেখ নুর ইসলাম, তাঁর স্ত্রী শীলা ইসলাম এবং দুই মেয়ে দিশা ইসলাম ও তাসনিম ইসলামের নাম রয়েছে।

তাঁদের কানাডার নাগরিকত্ব এবং সেখানে একাধিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্যও উঠে এসেছে। নথি অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যরা ‘শেখ নুর ম্যানেজমেন্ট ইনকর্পোরেটেড’-এর পরিচালক। শেখ নুর ইসলামকে ‘১৭৭১০৬৯ অন্টারিও ইনকর্পোরেটেড’-এর পরিচালক ও প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দেখানো হয়েছে। সেখানে তাঁর পেশা হিসেবে রিয়েল এস্টেট ব্যবস্থাপনা এবং ‘জুম জুম পিৎজা’ ব্যবসার মালিকানার তথ্য রয়েছে।

শীলা ইসলামের সঙ্গে ডমিনোজ পিৎজার ব্যবসা ও ব্যবস্থাপনার সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে। আর দিশা ইসলাম, যিনি সালমান মুক্তাদিরের স্ত্রী, কানাডার সান লাইফে বিনিয়োগ পরামর্শক ও সেগ্রিগেটেড ফান্ড বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তাঁকে ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের আরেক সদস্য তাসনিম ইসলামও কানাডার নাগরিক এবং ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে পরিবারের সদস্যদের সম্মিলিত আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ ৮৯ হাজার ৬২৯ কানাডিয়ান ডলার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর পাশাপাশি ব্রিটিশ পাউন্ড, সিঙ্গাপুর ডলার, থাই বাথ ও মার্কিন ডলারের লেনদেনের তথ্যও রয়েছে। শুধু ব্যবসা ও ব্যাংক হিসাব নয়, কানাডায় পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত, যৌথ এবং কোম্পানির নামে একাধিক ব্যাংক হিসাবের তথ্যও পাওয়া গেছে। শীলা ইসলামের নামে একটি মর্টগেজ হিসাব থাকার তথ্যও রয়েছে।

বাংলাদেশের কর নথিতেও শেখ নুর ইসলামের নামে একাধিক ব্যবসা ও প্রতিষ্ঠানের তথ্য রয়েছে। ২০২৩-২৪ করবর্ষে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৪ কোটি টাকা। পরের করবর্ষে তা বেড়ে প্রায় ১০৪ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। এর মধ্যে প্রায় ৯৫ কোটি টাকা রেমিট্যান্স হিসেবে দেখানো হয়েছে।

কর নথিতে বর্ষা মানি চেঞ্জিং সেন্টার, বর্ষা ডেইরি ফার্ম ও বর্ষা ফিশারিজের মতো ব্যবসার পাশাপাশি ডমিনোজ পিৎজা, ফুওয়াং বোলিং, ইস্টার্ন হোটেল অ্যান্ড বার, রেডিও মাসালা, স্পাইস টেলিভিশন, স্টারবাকস ক্যাফে ও টিম হর্টনসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিচালক হিসেবে তাঁর সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে।

তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশের কর নথিতে কানাডার ‘শেখ নুর ম্যানেজমেন্ট’, ‘১৭৭১০৬৯ অন্টারিও ইনকর্পোরেটেড’ কিংবা ঢাকার ওয়্যারহাউস ‘টস বন্ড’-এর নাম পাওয়া যায়নি। একইভাবে কানাডার নাগরিকত্বের তথ্যও কর নথিতে নেই বলে সংশ্লিষ্ট নথি থেকে জানা গেছে।

এর মধ্যে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) গভীর রাতে সালমান মুক্তাদিরের শ্বশুরের ছত্রছায়ায় চলা ‘অননুমোদিত’ ওয়্যারহাউসে শুল্কমুক্ত মদ রাখার অভিযোগে চারটি ওয়্যারহাউস সিলগালা করা হয়েছে।

এদিকে, ঢাকার দক্ষিণ মানিকদীতে নিউ গিনি প্রপার্টিজের আবাসন প্রকল্পে হামলার ঘটনায় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর শেখ নুর ইসলাম ও তাঁর পরিবারের আর্থিক বিষয়গুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কানাডায় অর্থ লেনদেন ও সম্পদের বিষয়ে যে তদন্ত চলছে, সেটি সাম্প্রতিক ওই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়।

এস এম/ ০২ অক্টোবর ২০২৬

 

Scroll to Top