লাল-সবুজের বুকে ফুটবলের মহোৎসব! সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজক বাংলাদেশ – DesheBideshe

লাল-সবুজের বুকে ফুটবলের মহোৎসব! সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজক বাংলাদেশ – DesheBideshe


লাল-সবুজের বুকে ফুটবলের মহোৎসব! সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজক বাংলাদেশ – DesheBideshe

ঢাকা, ২৬ মে – ভারতের গোয়ায় যখন নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের মাঠ কাঁপছে, ঠিক তখনই দক্ষিণ এশিয়ার পুরুষ ফুটবলের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট নিয়ে এলো এক মহা সুখবর। অবসান ঘটল দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার। চলতি বছরের পুরুষ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের স্বাগতিক দেশের মর্যাদা পেয়েছে বাংলাদেশ! তবে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য সূচিতে এসেছে এক বড় পরিবর্তন। পূর্বনির্ধারিত সেপ্টেম্বর মাসের পরিবর্তে টুর্নামেন্টটি পিছিয়ে এবার নভেম্বরে পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্তমানে ভারতের গোয়ায় অবস্থানরত সাফের সাধারণ সম্পাদক পুরুষত্তোম ক্যাটেল ভেন্যু ও সূচি পরিবর্তনের এই খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, “আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে সাফের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। তবে এটি চূড়ান্ত যে, আগামী নভেম্বরে পুরুষ সাফ ফুটবল অনুষ্ঠিত হবে এবং বাংলাদেশ এই আসরের স্বাগতিক।”

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) স্বাগতিক হওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছিল, যা ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের এই লড়াইয়ে সাফের সাতটি দেশই অংশ নেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে তাদের সম্মতি নিশ্চিত করেছে। বাংলাদেশের দুটি ভেন্যুতে এই টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো গড়াতে পারে, তবে ভেন্যু দুটি ঠিক কোন কোন স্টেডিয়াম হবে—তা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত করা হবে।

আগামী ৯ থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত ফিফা আন্তর্জাতিক উইন্ডো রয়েছে। কিন্তু উইন্ডোর এই সময়সীমা বেশ সংক্ষিপ্ত। একটি সফল সাফ টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে কমপক্ষে ১০ থেকে ১২ দিন সময় প্রয়োজন। তাই ফিফা উইন্ডোর নিয়মের মারপ্যাঁচে যেন টুর্নামেন্ট বাধাগ্রস্ত না হয়, সেজন্য বিশেষ ছক কষেছেন সাফ সাধারণ সম্পাদক।

তিনি ফিফা উইন্ডো শুরু হওয়ার আগেই টুর্নামেন্টের বাঁশি বাজাতে চান। এর পেছনে একটি বড় কারণ ব্যাখ্যা করে পুরুষত্তোম ক্যাটেল বলেন, “বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশের বেশ কয়েকজন প্রবাসী ও দ্বৈত নাগরিক ফুটবলার রয়েছেন, যারা ইউরোপ বা দক্ষিণ এশিয়ার বাইরের বিভিন্ন নামী লিগে খেলেন। আমরা চাচ্ছি উইন্ডোর কিছুটা আগে খেলা শুরু করতে, যাতে ক্লাবগুলোর রিলিজ সংক্রান্ত জটিলতা এড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে এই ফুটবলাররা নিজ নিজ দেশের হয়ে মাঠ মাতাতে পারেন।”

ফুটবল ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত একটি বেশ বড় ফিফা উইন্ডো ফাঁকা ছিল। সাধারণত এই সময়েই সাফ আয়োজন করা সহজ হতো। কিন্তু ওই নির্দিষ্ট সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম পরাশক্তি ভারত ‘আসিয়ান’ (ASEAN) টুর্নামেন্টে অংশ নেবে। ভারতকে ছাড়া সাফের জৌলুস ও বাণিজ্যিক আকর্ষণ অনেকটাই ম্লান হয়ে যায়। তাই ভারতের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করতেই সেপ্টেম্বর থেকে টুর্নামেন্টটি নভেম্বরে পিছিয়ে নেওয়া হয়েছে।

তাছাড়া সাফ আয়োজনের ক্ষেত্রে অন্যতম বড় একটি বাধা ছিল করপোরেট স্পন্সরশিপের সংকট। তবে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য স্বস্তির খবর হলো, স্পন্সরশিপের সেই বড় জটিলতাও এখন পুরোপুরি নিরসন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাফের সাধারণ সম্পাদক। ঘরের মাঠে আরও একটি হাই-ভোল্টেজ সাফ টুর্নামেন্ট দেখার জন্য এখন থেকেই প্রহর গোনা শুরু করতে পারেন বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকরা।

এনএন/ ২৬ মে ২০২৬



Scroll to Top