
পর্তুগাল দল ম্যানেজমেন্ট ও কোচের সাথে সম্পর্কের টানাটানি নিয়ে মুখ খুলেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তাকে ছাড়াই দারুণ ছন্দে আছে পর্তুগাল। নেশনস লিগে ডেনমার্ক ও নরওয়ের বিপক্ষে কোচ হোর্হে জেসাস সিআর সেভেনকে নামাননি। ঘটনার জেরে জাতীয় দল ছেড়ে চলে যান রোনালদো। সেটির কদিন পেরিয়ে মনের কথাগুলো তুলে এনেছেন চিঠিতে।
মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চিঠি পোস্ট করেছেন রোনালদো। মূলত ১০টি আলাদা পৃষ্ঠায় লেখা ও সঙ্গে নিজের ছবি পোস্ট করেছেন। কোচের বিষয়ে স্পষ্ট বলেছেন পর্তুগিজ অধিনায়ক। বলেছেন কোচ কথা রাখেননি। সতীর্থদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেনও মহাতারকা।
রোনালদো লিখেছেন, ‘পুরোপুরি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম, যখন কোচ আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন নরওয়ের বিপক্ষে ৩০ মিনিট খেলার জন্য প্রস্তুত কিনা। সেদিন আমার শারীরিক পুনরুদ্ধারের দিকে পুরোপুরি মনোনিবেশ করেছিলাম, বরাবরের মতোই সতীর্থদের সাথে ছিলাম এবং ভাবছিলাম সেদিন খেলব না। না খেলায় আমার কোন সমস্যা ছিল না। খেলার অনুরোধটি আমার শারীরিক পুনরুদ্ধার এবং প্রশিক্ষণ পরিকল্পনার বাইরে ছিল। কারণ আমার কেবল ৪ অক্টোবর ড্রাগাওতে খেলার কথা ছিল এবং স্বাভাবিকভাবে হ্যাঁ বলেছিলাম। কিন্তু তিনি আমাকে প্রস্তুত থাকতে বলেছিলেন। কারণ ৩০ মিনিট খেলব। এরপর কী হয়েছিল তা সবাই জানে। আমি বিরতির পর থেকে ওয়ার্মআপ করছিলাম, সময় গড়িয়ে যেতে দেখছিলাম, কিন্তু আমাকে ডাকা হয়নি। এটা প্রথমবার, যখন কোচ আমাকে দেয়া কথা রাখেননি।’
‘নরওয়ে ম্যাচের পর একটি পরিকল্পনা করা হয়েছিল, যেখানে জেসাস দুদিন পর ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্যের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে পারতেন। সংবাদ সম্মেলনটি ছিল সবার জানার বিষয়। তার আচরণের সাথে আমাদের সাক্ষাতের কোন সম্পর্ক ছিল না। তার মুখে এমন অভিব্যক্তি ও আগ্রাসী মনোভাব দেখেছি যা আমার প্রাপ্য ছিল না বলে মনে করি। কিন্তু এখানে তিনি দ্বিতীয়বার আমাকে দেয়া কথা ভেঙেছেন।’
‘অনুশীলন ক্যাম্প ছেড়ে আসার জন্য আমার জাতীয় দল সতীর্থদের কাছে ক্ষমা চাই। কোচের কথার উপর আস্থার চরম লঙ্ঘন হওয়া সত্ত্বেও, আমাদের কথোপকথনের প্রত্যক্ষদর্শী যেকেউই এর সাক্ষ্য দিতে পারেন, আমার এটা করা উচিত হয়নি। এর সম্পূর্ণ দায়ভার আমার। আমি পর্তুগিজ জনগণের কাছেও ক্ষমা চাই, কিন্তু একটি ভাঙা প্রতিশ্রুতি আমার উপর প্রভাব ফেলেছে। আমার মনে হয়েছিল, সেই মুহূর্ত থেকে আমার উপস্থিতি কেবল দলটির ক্ষতিই করবে। আমি সেটাই করলাম যা সবসময় বলে এসেছি, নিজেকে দরকারি মনে না করে আমার জিনিসপত্র গুছিয়ে চলে গেলাম।’
‘আমার কৃতকর্মের পরিণামে পর্তুগালের ফুটবল ফেডারেশন কর্তৃক মূল্যায়ন ও শাস্তি প্রদান করা উচিত। শাস্তিতে কোন সরল কিছু করার সুযোগ থাকা উচিত নয়। আমি শুধু একজন সাধারণ খেলোয়াড় নই, দলের অধিনায়ক, এটি একটি গুরুতর বিষয়।’
নিজের বিদায়ী ম্যাচ সম্পর্কে সিআর সেভেন বলেছেন, ‘আমি বিদায়ী ম্যাচ নিয়ে অনেককিছু শুনেছি। যে, আমার একটি মর্যাদাপূর্ণ বিদায় প্রাপ্য, ফেডারেশন আমাকে সেই সুযোগ দিতে চায়। আমার সকল ভক্তকে, বিশেষ করে সকল পর্তুগিজ জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিতে পারি, আমাদের এক বা একাধিক বিদায়ী ম্যাচ হবে। তার জন্য সময় আসবে। কিন্তু যখন জাতীয় দলের কথা ভাবি, তখন আসলে প্রতিযোগিতার কথাই ভাবি। যেদিন আমাকে বাবার মৃত্যুর খবর জানানো হয়েছিল, সেদিনও এটাই ভেবেছিলাম। জাতীয় দলের একটি অনুশীলন ক্যাম্পে ছিলাম এবং পরের দিনের ম্যাচ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমার দেশের জন্য সেটাই করেছিলাম, যা কোন ক্লাবের জন্য কখনোই করতাম না।’
জাতীয় দলে ফেরার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন রোনালদো, ‘যদি শারীরিকভাবে ফিট থাকি, আমার ক্লাবের হয়ে খেলতে পারি এবং গোল করতে পারি, তাহলে আশা করবো, আমার উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর জাতীয় দলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ও জিততে পারবো। যেমন আজ পর্যন্ত সবসময় থেকে এসেছি।’
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…


