কিন্তু তার এস্তেমাল হবে এমন, যাতে জীবনের অন্য রূপগুলো নিশ্চিহ্ন না হয় এবং প্রকৃতির নিজস্ব পুনর্গঠনশীলতা ক্ষয়প্রাপ্ত না হয়। এখানে সংযম শুধু আত্মনিয়ন্ত্রণ নয়; এটি সৃষ্টির প্রতি সৌন্দর্যময় দায়িত্ববোধ।
ফিতরাতি বাস্তুতন্ত্রের নৈতিক সভ্যতা তাই পরিবেশ রক্ষার কর্মসূচির সীমা পার হয়ে এগিয়ে যায়। সে মানুষের আত্মপরিচয়, অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কৃতি ও নন্দনবোধের পুনর্গঠন করতে চায়।
কারণ, যে সভ্যতা নদীকে শুধু সম্পদ হিসেবে দেখে, সে নদীকে ব্যবহার করবে। যে সভ্যতা নদীকে আমানত হিসেবে দেখে, সে নদীর প্রতি দায়িত্বশীল হবে। আর যে সভ্যতা নদীর প্রতি ইহসানের নৈতিকতা গ্রহণ করে, সে নদীর জীবন, সৌন্দর্য ও ভবিষ্যৎ প্রবাহকে সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করবে।
এখানে নিহিত আছে ফিতরাতি বাস্তুতন্ত্রের নৈতিক দর্শনের চূড়ান্ত তাৎপর্য। প্রকৃতির প্রতি নৈতিকতাকে কোনো বিশেষায়িত নীতিশাস্ত্র হিসেবে দেখলে চলবে না, যা মানবজীবনের অন্যান্য নৈতিক প্রশ্ন থেকে বিচ্ছিন্ন।
কারণ, এ হচ্ছে মানব নৈতিকতার কেন্দ্রীয় পরীক্ষা। মানুষ যখন সৃষ্টির ভারসাম্য রক্ষা করে, তখন সে নিজের নৈতিক সত্তাকেও সংরক্ষণ করে। আর যখন সে সেই ভারসাম্য ভঙ্গ করে, তখন সে নিজের নৈতিক ভিত্তিকেও আঘাত করে।
প্রকৃতি জয় প্রকৃতিতে মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব নিশ্চিত করে না। মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব নিশ্চিত হয় তখন, যখন তার স্পর্শে জীবন জেগে ওঠে, বেঁচে থাকে। পৃথিবী আরও জীবন্ত হয়।

