
ঠাকুরগাঁও, ৩ জুন – দেশে নতুন করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য একটি মহল পর্দার আড়াল থেকে গভীর পাঁয়তারা চালাচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এই ষড়যন্ত্র রুখতে দেশের সর্বস্তরের জনগণকে চরম সতর্ক ও সজাগ থাকার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আজ বুধবার (৩ জুন) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের নবগঠিত রুহিয়া উপজেলার ঐতিহাসিক রুহিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে দেশের আপামর জনগণের কাছে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বর্তমান সরকার অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তা বাস্তবায়নে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। জনগণের সরকার জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর।”
ঠাকুরগাঁও তথা উত্তরবঙ্গের অবহেলিত মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে একগুচ্ছ মেগা প্রকল্পের অগ্রগতির খতিয়ান তুলে ধরেন এলজিআরডি মন্ত্রী:
বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ: ঠাকুরগাঁও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং বহুল প্রতীক্ষিত মেডিকেল কলেজের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ (২০২৭) থেকেই এই দুই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি কার্যক্রম চালু হবে।
ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর: বন্ধ পড়ে থাকা ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দরটিকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে আগামী দুই বছরের মধ্যে শতভাগ চালুর লক্ষ্যে পুরোদমে কাজ চলছে।
ফ্যামিলি ও কৃষি কার্ড: প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের সহায়তায় ‘কৃষি কার্ড’ কর্মসূচির মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম সফলভাবে শুরু হয়েছে।
অবকাঠামো উন্নয়ন: গ্রামীণ জনপদের যেসব রাস্তা-ঘাট এখনো কাঁচা বা উন্নয়নবঞ্চিত রয়েছে, সেগুলোকে পর্যায়ক্রমে দ্রুত পাকা করার মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার ঠিক আগেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নবগঠিত রুহিয়া উপজেলার ‘অস্থায়ী কার্যালয়’ ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। এর মাধ্যমে রুহিয়াবাসীর দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসনের স্বপ্ন সত্যি হলো।
এই ঐতিহাসিক ক্ষণে আবেগাপ্লুত হয়ে এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, “রুহিয়াকে উপজেলা করার পেছনে আন্দোলন করা অনেক প্রবীণ নেতা আজ আমাদের মাঝে নেই, তারা পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন। তাদের এই ঐতিহাসিক অবদান রুহিয়ার মানুষ চিরদিন শ্রদ্ধার সাথে মনে রাখবে।”
“আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে হবে। তরুণ সমাজকে অবশ্যই মারাত্মক মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে এবং নিজেদের যোগ্য করে তুলে নতুন নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে। দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির চাকা সচল রাখতে তরুণদের ইতিবাচক ভূমিকা রাখা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।”— মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, এলজিআরডি মন্ত্রী ও মহাসচিব, বিএনপি
নতুন উপজেলার এই আনন্দ উৎসবে রুহিয়া হাই স্কুল মাঠে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরিফসহ বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিজের হোম-গ্রাউন্ডে মির্জা ফখরুলের এই সফর ও উন্নয়ন রোডম্যাপ উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন হাওয়া দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এনএন/ ৩ জুন ২০২৬






