গত ঈদুল ফিতরে বরিশালে যাওয়ার পথে সদরঘাটে সংঘটিত মর্মান্তিক লঞ্চ দুর্ঘটনায় নিহত বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা সোহেল ও মিরাজের পরিবারকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) সকালে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর ট্রাস্টি বোর্ডের পক্ষ থেকে প্রত্যেক পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তার চেক হস্তান্তর করা হয়। বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান নিহতদের স্বজনদের হাতে পৃথক চেকের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন।
এ সময় জানানো হয় যে, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দুটিকে আরও ২৫ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী নিহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং সরকারের পক্ষ থেকে তাদের পাশে থাকার আশ্বাস প্রদান করেন।
তিনি বলেন, নৌপথে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।
চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সদরঘাটে মর্মান্তিক লঞ্চ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো সোহেল ফকিরের স্ত্রী রেশমা আক্তার রুবা গত বুধবার (১০ জুন) ভোরে বরিশালের নিজ বাড়িতে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন।
রুবা জানান, তিনি গর্ভবতী হওয়ার পর তার স্বামী সোহেলের ইচ্ছা অনুযায়ী নবজাতকের নাম রাখা হয় রাইয়ান ইসলাম। তবে নবাগত সন্তানের আগমনে এই পরিবারে দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে। দুর্ঘটনায় স্বামী ও শ্বশুরকে হারানোর পর থেকে প্রিয়জন হারানোর শোক এবং চরম অর্থকষ্টে দিন কাটছে তার।



