যে কাজে বিনষ্ট হয় উপকারের সওয়াব

উপকারের পর খোঁটা কেন এত ক্ষতিকর

প্রয়োজনের সময় অন্যের সহযোগিতা গ্রহণ করতে অনেকের ভেতরেই একধরনের সংকোচ ও অস্বস্তি কাজ করে। এমন অবস্থায় উপকারকারী ব্যক্তি যদি বারবার সেই সাহায্যের কথা স্মরণ করিয়ে খোঁটা দেন, তাহলে তা উপকারগ্রহীতার মনে লজ্জা, অপমান ও কষ্টের জন্ম দিতে পারে।

খোঁটা মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কেও ফাটল ধরায়। এতে আত্মীয়তার বন্ধন দুর্বল এবং সামাজিক সৌহার্দ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মানুষ তখন এই আশঙ্কায় সহযোগিতা গ্রহণ করতেও ভয় পায় যে আজকের সাহায্য গ্রহণ হয়তো আগামী দিনের অপমানের অস্ত্র হয়ে দাঁড়াবে। (ড. মুহাম্মদ সাইয়্যিদ তানতাবি, আত-তাফসির আল-ওয়াসিত লিল-কুরআনিল কারিম, ১/৬০৯, দারুল মাআরিফ, কায়রো, ১৯৯২)

খোঁটা দেওয়া গুরুতর পাপ

ইসলামে দান ও উপকারের গুরুত্ব যেমন অনেক, তেমনি এরপর খোঁটা দেওয়ার ব্যাপারেও কঠোর সতর্কতা এসেছে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘তিন ব্যক্তির সঙ্গে আল্লাহ কেয়ামতের দিন কথা বলবেন না, তাঁদের দিকে তাকাবেন না এবং তাঁদের পবিত্রও করবেন না, তাঁদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।’

সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! তাঁরা কারা?’ তিনি বললেন, ‘(তাঁদের একজন হলো) যে দান করার পর খোঁটা দেয়।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১০৬)

অর্থাৎ যে দান আল্লাহর কাছে নৈকট্য অর্জনের মাধ্যম হতে পারত, খোঁটা দেওয়ার কারণে সেটিই মানুষের জন্য শাস্তির কারণ হয়ে যেতে পারে।

Scroll to Top