মিরাজ-হাসানের ৫-৩, ৫৭ করলেই ইতিহাস লিখবে বাংলাদেশ | চ্যানেল আই অনলাইন

২২৮ রানে পিছিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে নেমে বাংলাদেশ বোলারদের তোপে আসা-যাওয়ার মিছিলে মেতেছিল অস্ট্রেলিয়া। মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে নাস্তানাবুদ হতে হয়েছে স্বাগতিকদের। টাইগার অলরাউন্ডার নিয়েছেন ৪ উইকেট। অজি ব্যাটারদের মধ্যে ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল ক্যামেরন গ্রিনই। একপ্রান্ত আগলে রেখে করেছেন সেঞ্চুরি। তাতে ভর করে বাংলাদেশের লিড পেরিয়ে ৫৭ রানের লক্ষ্য দিতে পেরেছে তারা। ঐতিহাসিক জয় থেকে খানিকটা দূরে বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার মারারা স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে ব্যাটে নেমেছিল অস্ট্রেলিয়া। ৫৩ ওভারে ১৯৮ রানে থামে স্বাগতিকরা। জবাবে নেমে প্রথম ইনিংসে ১৩৮ ওভারে ৪২৬ রান করে বাংলাদেশ। ২২৮ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে ৯৫.১ ওভারে ২৮৪ রানে থামে অস্ট্রেলিয়া।

৫৩ ওভারে ৪ উইকেটে ১৬১ রানে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। ক্যামেরন গ্রিন ৪৩ রানে এবং অ্যালেক্স ক্যারি ১৯ রানে ব্যাটে নামেন। সাফল্যের জন্য বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি বাংলাদেশের। সপ্তম ওভারে অ্যালেক্স ক্যারিকে ফেরান মেহেদী হাসান মিরাজ। টাইগার স্পিনারের বল অফস্টাম্প লাইনে পিচ করে হালকা টার্নে বেরিয়ে যাচ্ছিল। ক্যারির ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে বল যায় লিটন কুমার দাসের গ্লাভসে।

১৭৮ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। ভাঙে গ্রিন-ক্যারির ৫৬ রানের জুটি। ১৯৩ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারায়। বিউ ওয়েবস্টারকে বোল্ড করেন মিরাজ। ২১ বলে ৫ রান করেন। ২০৭ রানে প্যাট কামিন্সকে নিজের চতুর্থ শিকার বানান মিরাজ। ৩২ বলে ৮ রান করেন অজি অধিনায়ক।

৮৭তম ওভারের পঞ্চম বলে ২৫০ রানে বাংলাদেশকে অষ্টম সাফল্য এনে দেন তাসকিন আহমেদ। মিচেল স্টার্ককে ফেরান লিটনের গ্লাভসবন্দি করে। ৩৪ বলে ১৮ রান করেন।

এরপর নাথান লায়নকে নিয়ে একপ্রান্ত আগলে রাখা গ্রিন সেঞ্চুরি করেন। ১৯৩ বলে শতক ছোঁয়া ইনিংসে ছিল ৪টি চার ও ১ ছক্কা। অজি অলরাউন্ডের তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি এটি।

৯২.৫ ওভারে দলীয় ২৭৮ রানে হাসানের অফস্টাম্পে করা ডেলিভারিতে পরাস্ত হন গ্রিন। বোল্ড হয়ে ফেরেন। ৪ চার ও ১ ছক্কায় ২০১ বলে ১০৪ রান করেন।

৯৬ ওভারের প্রথম বলে নাথান লায়নকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন মিরাজ। আবেদনে সাড়া দেন আম্পায়ার। লায়ন রিভিউ নিলেও লাভ হয়নি। অজিদের ইনিংস থামে ২৮৪ রানে। ২৭ বলে ১৫ রান করেন লায়ন।

এর আগে শনিবার তৃতীয় দিনে ট্রাভিস হেড ১৭, জ্যাক ওয়েদারল্যান্ড ০, মার্নাস লাবুশেন ৩১ এবং স্টিভেন স্মিথ ৪৪ রানে আউট হন।

দ্বিতীয় ইনিংসে মেহেদী হাসান মিরাজ ৩৩.১ ওভার বল করে ৬৬ রানে ৫ উইকেট নেন। টাইগার অলরাউন্ডারের ১৫তম ফাইফার এটি। হাসান ১৯ ওভারে ৫৬ রানে ৩ উইকেট নেন। তাইজুল ও তাসকিন নেন একটি করে উইকেটে।

এর আগে বৃহস্পতিবার ব্যাটে নেমে হাসান মাহমুদের তোপে পড়েছিল অজিরা। প্রথমদিনে চা বিরতির পরপর ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায়। সর্বোচ্চ ৭১ রান করেন স্টিভেন স্মিথ। জ্যাক ওয়েদারল্যান্ড ২৩, ট্রাভিস হেড ২২ এবং অ্যালেক্স ক্যারি ১৯ রান করেন।

১৭ ওভারে ৩ মেডেনসহ ৫৫ রানে ৬ উইকেট নেন হাসান মাহমুদ। তার ক্যারিয়ারসেরা বোলিং। ৩৯ রানে ২ উইকেট নেন ইবাদত হোসেন। ৫৫ রানে ২ উইকেট নেন তাসকিন।

জবাবে নেমে প্রথম ইনিংসে টাইগার ব্যাটারদের মধ্যে তানজিদ তামিম সেঞ্চুরি করেন, ১০১ রানের ইনিংস খেলেন। নাজমুল হোসেন শান্ত ৮৪, মেহেদী হাসান মিরাজ ৬৫, মুমিনুল হক ৪৯, মুশফিকুর রহিম ৩৬ রান করেন।

অস্ট্রেলিয়া বোলারদের মধ্যে জশ হ্যাজেলউড ৬ উইকট নেন। মিচেল স্টার্ক ২, প্যাট কামিন্স ও নাথান লায়ন নেন একটি করে উইকেট।

Scroll to Top