
তেহরান, ০২ মে – যুদ্ধ-উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবারও আলোচনায় বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইরান। তবে এ ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনকে ‘অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি’ ও হুমকিমূলক বক্তব্য পরিহার করতে হবে— এমন শর্ত জুড়ে দিয়েছে তেহরান।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন প্রেস টিভি-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, শুক্রবার তুরস্ক সফরকালে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি আঞ্চলিক দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বৈঠকে অংশ নেন। সেখানে তুরস্ক, কাতার, সৌদি আরব, মিসর, ইরাক ও আজারবাইজানের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সংলাপ নিয়ে ইরানের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
বৈঠকে আরাগচি স্পষ্টভাবে বলেন, ইরান এই সংঘাতের সূচনা করেনি এবং যদি যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করে পুনরায় হামলা শুরু করে, তবে তা মোকাবিলায় ইরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত। একইসঙ্গে তিনি সংলাপের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর জোর দেন।
তিনি বলেন, “আমরা চাই মতপার্থক্যগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হোক। একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরান আবারও আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে তার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই হুমকি ও উসকানিমূলক বক্তব্য বন্ধ করতে হবে।”
ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যৌথভাবে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। প্রায় ৪০ দিন ধরে চলা সংঘাতের পর গত ৮ এপ্রিল দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।
এরপর ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদ-এ শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে মুখোমুখি বৈঠকে বসে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল। তবে টানা ২১ ঘণ্টার আলোচনা সত্ত্বেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি এবং চুক্তি ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়।
পরবর্তী সংলাপের ভিত্তি হিসেবে ইরান সম্প্রতি তিন ধাপের একটি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছিল, যা যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর পাকিস্তানের মাধ্যমে নতুন আরেকটি প্রস্তাব ওয়াশিংটনের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে, যদিও সেই প্রস্তাবের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষের কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও পারস্পরিক অবিশ্বাস ও কড়া অবস্থানের কারণে দ্রুত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো এখনো অনিশ্চিত। তবে উত্তেজনা কমাতে সংলাপের বিকল্প নেই বলেও মনে করছেন তারা।
এনএন/ ০২ মে ২০২৬






