রাজধানীর রামপুরার বনশ্রী এলাকার একটি হিফজ মাদ্রাসার ১০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারসহ আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত মাদ্রাসাছাত্র মো. শিহাব হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুজ্জামান এই আদেশ দেন।
এর আগে বুধবার (২০ মে) রাত আটটার দিকে পাবনা জেলার বেড়া থানার খাকছাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে রামপুরার বনশ্রী সি-ব্লকের ‘আলোকিত কুরআন ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসা’র ছাত্র।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মে (মঙ্গলবার) রাত ১০টার দিকে বনশ্রীর আলোকিত কুরআন ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসা থেকে মো. আব্দুল্লাহ (১০) নামের এক শিক্ষার্থীর গলায় গামছা পেঁচানো ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে রামপুরা থানা পুলিশ।
সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করার সময় পুলিশ কর্মকর্তারা শিশুটির পায়ুপথে অস্বাভাবিক যৌনাচারের লক্ষণ দেখতে পান। এরপর পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) মর্গে পাঠায়।
ঘটনার পর পুলিশ মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা জানায়, অভিযুক্ত শিহাব হোসেন ইতিপূর্বেও মাদ্রাসার আরও চারজন ছাত্রের সঙ্গে অস্বাভাবিক যৌনাচারে লিপ্ত হয়েছিলো। এই ঘটনার পরপরই ১৯ মে রাতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে রামপুরা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ১৯ মে শিশু আব্দুল্লাহ গলায় ফাঁস দেওয়ার আগেই অভিযুক্ত শিহাব হোসেন মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে পাবনায় তার গ্রামের বাড়িতে চলে যায়। পরে রামপুরা থানা পুলিশ পাবনার বেড়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
এদিকে ঘটনার পরদিন বুধবার নিহত শিশু আব্দুল্লাহর মা মোছা. টুকু আরা খাতুন বাদি হয়ে রামপুরা থানায় মো. শিহাব হোসেন এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।




