বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আসন্ন নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক হওয়ার পথে রয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ। ক্যাটাগরি-৩ থেকে একমাত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন তুলেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র গ্রহণের শেষ দিন ছিল। নির্বাচন কমিশন এদিন বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, ক্যাটাগরি-১ থেকে ১৯ জন ক্যাটাগরি-২ থেকে ১৯ জন এবং ক্যাটাগরি ৩ থেকে একজন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তবে নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত ক্যাটাগরি-১ থেকে ৮ জন, ক্যাটাগরি ২ থেকে ১৪ জন এবং ক্যাটাগরি-৩ থেকে একজন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
গত বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিসহ দেয়া স্ট্যাটাসে ক্যাটাগরি-৩ থেকে মনোনয়নপত্র কেনার ব্যাপারটি নিশ্চিত করেন বিদ্যুৎ। তবুও আইনি কারণে এখনই তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত বলার অবকাশ নেই। কারণ তার মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশন বৈধ ঘোষণা করলেই এটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয়া সম্ভব। এছাড়া মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সুযোগ সকল পরিচালক পদপ্রার্থীর রয়েছে। তাই বিদ্যুতের নিয়ে সরাসরি ঘোষণা দিতে নারাজ কমিশন। এমনকি সংবাদ সম্মেলনে তার মনোনয়নপত্র নেয়ায় ঘটনাটিও প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে গেছেন রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জহিরুল হক চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘মাফ করবেন। আমরা নাম না বলি, কালকে আমরা পুরোটা বিস্তারিতভাবে বলি। আমার পুরো বিষয়টাই ভুল হতে পারে। আমি এই ধরণের, মানে এত খুঁটিনাটি বিষয়গুলো বলার জন্য প্রস্তুত নই।’
‘আমি এটা এখনই বলছি না। কারণ যাচাই-বাছাই তালিকা হবে। সেখানে অনেক ভালো-মন্দ দিক রয়েছে। আপনি যখন গ্রহণ করেছেন, তারটা যে বৈধ নাকি অবৈধ- অনেক কিছু তো রয়েছে। আমি কীভাবে এই সব বিষয় বলি? এটা তো আমার জন্য মানে সঠিক সময় না। আমার তো অনেকগুলো প্রক্রিয়া এখনো পরিচালনা করা বাকি আছে।’
মূলত, যারা মনোনয়নপত্র কিনেছেন তাদের সবার নাম জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন জহিরুল হক চৌধুরী। তার ভাষ্য, ‘পুরোটাই আপনাদের সামনে আনলাম আজকে। কারণ এতগুলো জিনিস একসাথে করতে পারিনি আসলে। কারণ (মনোনয়নপত্র) নেয়াটা এবং বিক্রি করাটা আমাদের কাছে চ্যালেঞ্জ ছিল সারাদিনের কাজে। তো এই পুরা বিষয়টা ধরেন আরেকটু সময় লাগবে। এজন্য আপনাদেরকেও আর অপেক্ষা করানো হয়নি যেহেতু আমরা সময়টা দিয়েছি। তো আমরা কালকে পুরা জিনিসটারই পুঙ্খানুপুঙ্খ উত্তর দিয়ে দেবো আপনাদের সামনে।’
‘যে সমস্ত ব্যক্তিবর্গ এখানে নির্বাচন করবেন, তারা ফরম কেনার জন্য ডেডলাইনটা আজকেই শেষ হয়ে গিয়েছে। আর যারা জমা দেবেন, যারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় করবেন, তাদের একটা অংশ আজকে জমা দিয়েছেন। আর কিছু অংশ… তারা আগামীকাল পর্যন্ত (জমা দেয়ার জন্য) ওপেন আছেন। তো সেখানে যারা জমা দিবেন, সকলকে নিয়ে আমরা একটা স্ক্রুটিনি করবো এবং তার প্রেক্ষিতে আমরা একটা প্রতিদ্বন্দ্বীদের একটা তালিকা প্রকাশ করবো।’
এবারের নির্বাচনে মোট ১৯২ জন ভোটার হওয়ার কথা থাকলেও, খসড়া তালিকায় নাম এসেছে ১৮৪ জনের। কয়েকটি জেলা ও সংস্থা থেকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাউন্সিলর মনোনয়ন না দেয়ায় ভোটার সংখ্যা ৮ জন কমেছে।
কুমিল্লা, মুন্সিগঞ্জ, হবিগঞ্জ, কুড়িগ্রাম, এবং নীলফামারী জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে কাউন্সিলশিপ জমা দেয়া হয়নি। বিশেষ সংস্থার মধ্যে কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ আনসার বিডিপি থেকেও জমা পড়েনি কাউন্সিলরশিপ।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জহিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘এমন একটি ঘটনা ঘটেছে যেখানে অনেকেই ডেডলাইনের পরে সাবমিট করেছে। আমরা এই ডেডলাইনের তারিখ এবং সময়কে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবেই বিবেচনা করি। তারা পরবর্তীতে কোনো আপিলও করেনি। এ পর্যন্ত তাদেরকে যে বাতিল করা হয়েছে, তা মূলত এই ডেডলাইনের কারণেই করা হয়েছে। তবে তাদের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আবার আপিল করার সুযোগ ছিল, কিন্তু তারা সেটিও করেনি আর এই কারণেই এটি খালি পড়ে আছে।
প্রতিবারের মতো এবারও তিন ক্যাটাগরি থেকে ২৩ জন পরিচালক নির্বাচিত হবে। ক্যাটাগরি-১ অর্থাৎ জেলা-বিভাগ ক্যাটাগরি থেকে ১০ জন। ক্যাটাগরি-২ অর্থাৎ ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে নির্বাচিত হবেন ১২ জন। এছাড়া সাবেক ক্রিকেটার, সার্ভিসেস এবং সব বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিলর (ক্যাটাগরি-৩) থেকে নির্বাচিত হবেন একজন। বাকি দুইজন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে মনোনীত হবেন।





