বিশ্বে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন প্রতি ৮ জনে ১ জন | চ্যানেল আই অনলাইন

বিশ্বে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন প্রতি ৮ জনে ১ জন | চ্যানেল আই অনলাইন

বিশ্বজুড়ে মানসিক স্বাস্থ্য সংকট ক্রমেই গভীর হচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বের প্রতি আটজনের মধ্যে প্রায় একজন কোনো না কোনো মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন এবং গড়ে প্রতি ৪৩ সেকেন্ডে একজন আত্মহত্যা করে মারা যাচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার ২১ মে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই সপ্তাহে জেনেভা-য় অনুষ্ঠিত ৭৯তম বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে মানসিক স্বাস্থ্যকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এক বিলিয়নের বেশি মানুষ মানসিক স্বাস্থ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত এবং এই সংখ্যা বাড়ছেই।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তরুণ-তরুণীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। অন্যদিকে পুরুষদের মধ্যে আত্মহত্যার হার বেশি হলেও নারীরা উদ্বেগ ও বিষণ্ণতায় তুলনামূলক বেশি আক্রান্ত হন। তা সত্ত্বেও মানসিক স্বাস্থ্য খাতে বৈশ্বিক সরকারি ব্যয় মোট স্বাস্থ্য বাজেটের গড়ে মাত্র ২ শতাংশ।

মানসিক স্বাস্থ্য ব্যাধি এমন কিছু অবস্থা, যা মানুষের অনুভূতি, চিন্তা ও আচরণকে প্রভাবিত করে। ডব্লিউএইচও ও ডায়াগনস্টিক এন্ড স্ট্যাটিসটিকাল ম্যানুয়াল অফ মেন্টাল ডিসর্ডার্স (ডিএসএম-৫) অনুযায়ী, এসব ব্যাধির মধ্যে রয়েছে—বিষণ্ণতা, উদ্বেগ, বাইপোলার ডিসঅর্ডার, সিজোফ্রেনিয়া, পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার, খাদ্যাভ্যাসজনিত সমস্যা, ব্যক্তিত্বজনিত ব্যাধি এবং মাদক ব্যবহারের সমস্যা।

২০১৯ সালের ডব্লিউএইচও তথ্য অনুযায়ী, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার হার সবচেয়ে বেশি ছিল আমেরিকা অঞ্চলে (১৫ দশমিক ৬ শতাংশ), এরপর পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল (১৪ দশমিক ৭ শতাংশ), ইউরোপ (১৪ দশমিক ২ শতাংশ), দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া (১৩ দশমিক ২ শতাংশ), পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল (১১ দশমিক ৭ শতাংশ) এবং আফ্রিকা (১০ দশমিক ৯ শতাংশ)।

বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ ও বিষণ্ণতা সবচেয়ে সাধারণ মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। উদ্বেগজনিত সমস্যায় ভুগছেন প্রায় ৩৫৯ মিলিয়ন মানুষ। ১৯৯০ সালের তুলনায় এ সংখ্যা ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বিষণ্ণতায় আক্রান্ত প্রায় ৩৩২ মিলিয়ন মানুষ, যা বিশ্বব্যাপী অক্ষমতার অন্যতম প্রধান কারণ। প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে উদ্বেগজনিত ব্যাধিতে আক্রান্ত প্রায় ৬৮৬ জন এবং বিষণ্ণতায় আক্রান্ত প্রায় ৬৯৫ জন।

ডব্লিউএইচও ও আইএইচএমই-এর তথ্য অনুযায়ী, উদ্বেগজনিত সমস্যার হার সবচেয়ে বেশি পর্তুগাল-এ (১৩ দশমিক ৩ শতাংশ), এরপর ব্রাজিল (১২ দশমিক ৪ শতাংশ) ও ইরান (১২ দশমিক ৩ শতাংশ)। অন্যদিকে বিষণ্ণতার হার সবচেয়ে বেশি সিরিয়া-য় (৮ শতাংশ), এরপর যুক্তরাজ্য ও নেদারল্যান্ডস।

মেডিকেল জার্নাল দ্যা ল্যানসেট-এ প্রকাশিত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিশ্বে বছরে প্রায় ৭ লাখ ৪০ হাজার মানুষ আত্মহত্যা করেন। অর্থাৎ গড়ে প্রতি ৪৩ সেকেন্ডে একটি মৃত্যু ঘটে। ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে আত্মহত্যা মৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ এবং একই বয়সী নারীদের মধ্যে দ্বিতীয় প্রধান কারণ। ২০২১ সালের হিসাবে, প্রতি এক লাখ পুরুষের মধ্যে আত্মহত্যার হার ছিল ১২.৮ জন, যেখানে নারীদের ক্ষেত্রে এ হার ৫ দশমিক ৪ জন।

ডব্লিউএইচও-এর মতে, শরণার্থী, আদিবাসী জনগোষ্ঠী এবং বৈষম্যের শিকার কিছু গোষ্ঠী আত্মহত্যার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকে।

Scroll to Top